সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং সংগৃহীত তথ্য যাচাইয়ের জন্য মাঠকর্মীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের বজ্রকণ্ঠ হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে মোট ৫২ জন মাঠকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী। সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তী।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ১০ ও ১১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। প্রশিক্ষণ শেষে মাঠকর্মীরা নির্ধারিত এলাকায় গিয়ে সম্ভাব্য উপকারভোগী পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্যের যথার্থতা যাচাইয়ের কাজও করবেন তাঁরা। এ লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আরও পড়ুন,খাবারের প্রলোভনে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ভারতে পাচারের আগেই উদ্ধারকর্মসূচির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। এরপর ৪ নম্বর পাটগাতী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। এ সহায়তা উপকারভোগী পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও উপকার বয়ে আনবে। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কর্মসূচির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০ ও ১১ অক্টোবর পর্যায়ক্রমে মোট ৫২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে তাঁদের পুরো উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত করা হবে।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষিত মাঠকর্মীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে। এর ফলে কর্মসূচির আওতায় সম্ভাব্য উপকারভোগী পরিবারগুলোর তথ্য নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করা সহজ হবে এবং টুঙ্গিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।