দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী

অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ; পূবাইলে রেললাইনের পাশে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে স্ত্রী হাসনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক হয়েছেন প্রবাসী স্বামী রফিকুল ইসলাম। বিদেশ থেকে পাঠানো প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তাঁর এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন হায়দরাবাদ শুকুন্দিরবাগ এলাকার হান্নান মার্কেটসংলগ্ন মাওরারটেক রেললাইনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন রফিকুলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। গুরুতর আহত হাসনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আটক রফিকুল ইসলাম নওগাঁ জেলার মান্দা থানার বড়ট্রকাঠের ডাংগা গ্রামের মৃত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ও হাসনা সম্পর্কে নানা-নাতনী। প্রায় চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। ১০ বছরে ২০ লাখ টাকা পাঠানোর দাবি রফিকুলের দাবি, গত ১০ বছরে বিদেশ থেকে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। পাশাপাশি স্ত্রীকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এসব বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে।আরও পড়ুন,স্বদেশ আইডিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজ / মাদ্রাসায় বার্ষিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত তবে তাঁদের বিয়ের সময়কাল, বিদেশে থাকার সময় এবং অর্থ পাঠানোর হিসাব সম্পর্কে আরও যাচাই প্রয়োজন। টাকা আত্মসাৎ কিংবা অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ভাড়া বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনার দিন রোববার দুপুরে রফিকুল তাঁর স্ত্রী হাসনাকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন খাইলকুর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে পূবাইলের হায়দরাবাদ মাওরারটেক রেললাইন এলাকায় ডেকে নিয়ে যান। পরে রেললাইনের কাছাকাছি নির্জন স্থানে ধারালো ছুরি দিয়ে হাসনার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসনার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা রফিকুলকে আটক করেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় হাসনাকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু খবর পেয়ে পূবাইল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রফিকুলকে হেফাজতে নেয়। গুরুতর আহত হাসনাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ‘টাকা নিয়ে অন্যের সঙ্গে সংসার করবে, সহ্য করতে পারব না’ আটক হওয়ার পর রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার বউ আমার টাকা নিয়ে অন্য একজনের সঙ্গে সংসার করবে, এটা আমি সহ্য করতে পারব না। তাকে মেরে আমিও মরে যাব।” তাঁর বক্তব্যে অর্থ লেনদেন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে ক্ষোভের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। অর্থ আত্মসাৎ বা অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলেও তা কোনোভাবেই সহিংসতা বা হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দেয় না। রেলওয়ে থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর ঘটনাস্থল রেললাইনের কাছাকাছি হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পূবাইল থানা-পুলিশ আটক রফিকুল ও মরদেহ সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানার (জিআরপি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মামলার অগ্রগতি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে।

১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী