রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় সামনে এসেছে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে কৌশল নিয়েছিল প্রধান আসামি সোহেল রানা। আদালতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর শরীর থেকে আলামত মুছে ফেলায় ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি।সোমবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার চার্জগঠন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ এ তথ্য তুলে ধরে। পরে আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু আদালতে দাবি করেন, ঘটনার পর আসামি ধর্ষণের আলামত নষ্টের চেষ্টা করেছে। এ কারণেই ডিএনএ পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে, আদালতে তোলার সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তার ভাষ্য, হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের জন্য ওই ব্যক্তিই দায়ী। তবে আরো পড়ুন , মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ২৩রাষ্ট্রপক্ষ এই বক্তব্যকে বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে।আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় সোহেলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি এবং ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। তাই তারা অব্যাহতি চেয়েছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করে অভিযোগ গঠন করেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভেজা অবস্থায় আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে নমুনা না থাকলে পরীক্ষাও ফলপ্রসূ হয় না।উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে। এরই মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।