দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বরাদ্দ আছে, তবু সার নেই ,আমন চাষে কুড়িগ্রামের কৃষকের হাহাকার

আমন ধানের চারা রোপণের ২১ দিনের মধ্যেই জমিতে সার প্রয়োগের কথা। কিন্তু ২৬ দিনেও সার পাননি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর কৃষক মোহাম্মদ আলী। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনে জমিতে দিতে হয়েছে তাকে।১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন মোহাম্মদ আলী। তার মতো উপজেলার অনেক কৃষকই এবার সার সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত না খোলা, ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্য এবং গুদাম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রয়োজনের সময় সার মিলছে না।কৃষকদের আরও অভিযোগ, কয়েকজন ডিলারের মূল গুদাম সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাইরে থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ের বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত সার পাওয়া যায় না। কোথাও সার আসার খবর পেলেই দীর্ঘ লাইনে ভিড় করছেন কৃষকরা। আবার অনেককে খালি হাতে ফিরে গিয়ে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে।আরও  পড়ুন, লাইসেন্সবিহীন গরুর মাংস বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাএরই মধ্যে গত ২৩ আগস্ট শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে সার সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কৃষকরা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেগুলো ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।কৃষি বিভাগ অবশ্য বলছে, পুরো উপজেলায় সারের ঘাটতি নেই। তবে ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্যের কারণে শিলখুড়ি ইউনিয়নে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। অন্য ইউনিয়ন থেকে সার সমন্বয় করে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এদিকে ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।তবে কৃষকদের দাবি—শুধু বরাদ্দ সমন্বয় নয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত বিক্রয়কেন্দ্র খোলা, বরাদ্দ অনুযায়ী সার পৌঁছানো এবং সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। নইলে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কায় পড়তে পারেন কৃষকরা।

বরাদ্দ আছে, তবু সার নেই ,আমন চাষে কুড়িগ্রামের কৃষকের হাহাকার