দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় দেবাশীষ ও গুলশান আরার জামিন নামঞ্জুর

রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় রিমান্ড শেষে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা।শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে রাজধানীর দুটি এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা করেন ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর।সোমবার তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাঁদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ। এ সময় আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আরও পড়ুন,দুর্গাপূজায় নাশকতার হুমকি নেই, নিরাপত্তায় এসআরবির ৬ হাজার সদস্যমামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও গুলশান আরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ, সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এজাহারে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে দুটি গ্রুপের উল্লেখ রয়েছে।এ ছাড়া ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামে প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে রাজনৈতিক পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ‘কালআজকাল ডটকম’ নামে একটি পেজের মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতায় উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে। এজাহারে গুলশান আরার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘সেনা পরিষদ’ নামে কমিটি গঠন করে বিদ্বেষ ছড়ানো ও দাঙ্গা-হাঙ্গামায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় দেবাশীষ ও গুলশান আরার জামিন নামঞ্জুর