দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন, পুরস্কৃত ৬ শিক্ষার্থী

 কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মেয়েশিশুর সম্ভাবনা বিকাশের প্রত্যয় নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছয় শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ‘কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দিবসের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতনতা সৃষ্টির বার্তা তুলে ধরা হয়। র‍্যালিতে ‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যাশিশুর বিজয়’—এমন স্লোগানের মাধ্যমে কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। পরে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষ ‘বজ্রকণ্ঠে’ আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।আরও  পড়ুন,  নরসিংদীতে পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার ১ জন এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের যথাযথ শিক্ষা, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে তারা দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। এ জন্য কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং তাদের মতামত ও অধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, কন্যাশিশুর সম্ভাবনা বিকাশে শুধু পরিবার নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও প্রশাসনকেও সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মেয়েশিশুদের জন্য নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারবে। আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতার ‘ক’ ও ‘খ’—দুটি বিভাগে তিনজন করে মোট ছয়জন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। এ আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি কন্যাশিশুর অধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং তাদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কন্যাশিশুর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি উন্নত, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন, পুরস্কৃত ৬ শিক্ষার্থী