রাজধানীর কুড়িল থেকে ৩০০ ফিট সড়ক হয়ে পূর্বাচল পর্যন্ত দ্রুত বাড়ছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের বসতি ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। কিন্তু বাড়তি যানবাহনের তুলনায় জ্বালানি সরবরাহের অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা। জ্বালানি নিতে অনেককে কুড়িল, খিলক্ষেত কিংবা জলসিঁড়ির দিকে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি খরচের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বাড়ছে যানবাহনের চাপ।৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশপাশে পর্যাপ্ত ফিলিং স্টেশন না থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহনকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কুড়িল পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের বেশি, খিলক্ষেত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এবং জলসিঁড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ যেতে হচ্ছে।আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক বাসিন্দা বলেন, গাড়িতে কয়েক লিটার তেল নিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে বের হলেও যাওয়ার পথেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল শেষ হয়ে যায়। আশপাশে ফিলিং স্টেশন থাকলে এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।বাসিন্দারা বলছেন, বসুন্ধরা, পুলিশ অফিসার হাউজিং সোসাইটি, নৌবাহিনী, স্বদেশ স্বর্ণালী, স্বদেশ সানভ্যালি ও ইউনাইটেড সিটির মতো এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। আরও পড়ুন, আগারগাঁওয়ে চোরাই তেলের রমরমা কারবার, শেরেবাংলা নগর থানার বিশেষ অভিযানঅথচ এসব এলাকার আশপাশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফিলিং স্টেশন নেই। ফলে জ্বালানি নিতে দূরে যাওয়ার কারণে ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি গণপরিবহন, পণ্যবাহী যান, রাইড শেয়ারিং ও মোটরসাইকেলেরও অতিরিক্ত চলাচল হচ্ছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন বাড়তি কয়েক কিলোমিটার চলাচল করায় অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে যানজট, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় অন্তত দুই থেকে তিনটি পরিকল্পিত ফিলিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সমীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করে অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, সড়কের ধারণক্ষমতা ও যানবাহনের প্রবেশ-বের হওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় নতুন পেট্রোলপাম্প ও ফিলিং স্টেশন অনুমোদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে নতুন অনুমোদনের জন্য খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, মানুষের বসবাস বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগরসেবা ও অবকাঠামোর পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। পরিকল্পনার ঘাটতি থাকলে এক এলাকার সমস্যা অন্য এলাকাতেও বাড়তি চাপ তৈরি করে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।