দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ঢাকের বাদ্যি থেমে বিষাদের সুর, ফুলবাড়িয়ায় ৭৫ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

পৌর সদরের তিনটিসহ উপজেলার সব মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন, আগামী শরতে আবারও মা দুর্গাকে বরণের অপেক্ষা কাশফুলের দোলা, ঢাকের বাদ্যি আর পূজামণ্ডপের আলোকসজ্জায় যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, তার শেষ হলো বিদায়ের সুরে। চার দিনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, পূজা-অর্চনা আর ভক্তদের মিলনমেলা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা। উৎসবের রঙিন দিনগুলো পেছনে ফেলে মণ্ডপে মণ্ডপে নেমে এলো বিষাদের আবহ। তবে সেই বেদনার মধ্যেও রয়ে গেল আগামী শরতে আবারও মা দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার বাজার এলাকার বড়পুকুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পৌর সদরের তিনটি পূজামণ্ডপের বিসর্জন সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে উপজেলার ৭৫টি পূজামণ্ডপের নিজ নিজ স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীর সকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় দশমী বিহিত পূজা। পূজা-অর্চনা শেষে দেবীর চরণে শেষ প্রণাম জানিয়ে ভক্তরা প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলময় জীবনের। এরপর শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। দিনভর মণ্ডপগুলোতে ছিল ভক্তদের আনাগোনা। বিদায়ের ক্ষণে আনন্দের সঙ্গে মিশে যায় মনখারাপের অনুভূতি। দুর্গোৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল পূজা,আরও পড়ুন,বিজয়ার শুভক্ষণে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা দিলেন শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারঅঞ্জলি, ঢাকের তালে উৎসব আর মানুষের মিলনমেলা। নতুন পোশাকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, পরিচিতজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়—সব মিলিয়ে উৎসবের দিনগুলো হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত। কিন্তু বিজয়া দশমীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সেই কোলাহল থেমে আসে। বিদায়বেলায় ভক্তদের মনে পড়ে থাকে উৎসবের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি এ উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনের বার্তাও বহন করে। দেবীর আগমনে যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। তবু বিদায় মানেই সবকিছুর শেষ নয়, বরং নতুন করে অপেক্ষা শুরুর নাম। ফুলবাড়িয়ার ৭৫টি পূজামণ্ডপে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে গেছে ঢাকের শেষ ঢোল, পূজার মন্ত্র আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের স্মৃতি। বিসর্জনের জলে ভেসে গেছে প্রতিমার দৃশ্যমান রূপ, কিন্তু থেকে গেছে বিশ্বাস, প্রার্থনা আর আশার আলো। ঢাকের বাদ্যি থেমেছে, মণ্ডপের উৎসবের আলোও ধীরে ধীরে নিভে আসবে। তবু ভক্তদের মনে বাজতে থাকবে বিদায়ের সেই চেনা সুর,আগামী শরতে আবারও আসবেন মা দুর্গা, আবারও জেগে উঠবে মণ্ডপ, বাজবে ঢাক, ফিরবে উৎসবের আনন্দ। সেই প্রতীক্ষায় ফুলবাড়িয়ায় শেষ হলো এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

ঢাকের বাদ্যি থেমে বিষাদের সুর, ফুলবাড়িয়ায় ৭৫ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি