মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে আবারও আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা। সাংবাদিক ই জেন ক্যারলের দায়ের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পের আপিল নিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক বিলম্ব।তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতিদের গোপন বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকা এই আপিল শেষ মুহূর্তে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে মামলাটি অন্তত ১৫ বার আদালতের এজেন্ডায় যুক্ত ও পুনঃনির্ধারিত হয়েছে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মেয়াদে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিউইয়র্কের একটি জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ আদেশ। জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী বলে রায় দেয়। ট্রাম্প এখন সেই রায় বাতিলের চেষ্টা করছেন।এর পাশাপাশি একই আরো পড়ুন , তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, ইতালির ১৫ শহরে জরুরি সতর্কতামামলার আরেক রায়ে তার বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণও নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সুদসহ ট্রাম্পের সম্ভাব্য আর্থিক দায় ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে আইনজীবীরা ধারণা করছেন।ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, বিচার চলাকালে প্রমাণ গ্রহণে গুরুতর ত্রুটি হয়েছে। বিশেষ করে, অন্য দুই নারীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং বহুল আলোচিত ‘অ্যাক্সেস হলিউড’ ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করা উচিত হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।অন্যদিকে ই জেন ক্যারলের আইনজীবীরা বলছেন, বিচারক আইন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং জুরির রায় পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে।এরই মধ্যে ফেডারেল আপিল আদালত ৫০ লাখ ডলারের রায় বহাল রেখেছে। পূর্ণ বেঞ্চে পুনর্বিবেচনার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ নীরবতা। আদালত কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, সংশ্লিষ্ট আরও কিছু আপিল একসঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে। আবার রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণেও বিচারপতিরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।সবশেষে মামলাটি আবারও আদালতের এজেন্ডায় যুক্ত হয়েছে। ফলে ট্রাম্প–ক্যারল আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।