শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হল পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে আসার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিয়েছে।এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাঁর আগমন এবং পূজা উদযাপনকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।নগরীর পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় দুই হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উৎসব শুরুর অনেক আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসআরবির পাশাপাশি পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করছে।আরও পড়ুন, মহেশপুরের বিভিন্ন সার্বজনীন দূর্গাপুজা মণ্ডব পরিদর্শন করেন ৫৮ বিজিবি’র পরিচালক লেঃ কর্নেলনিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় এসআরবি সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ টহল দলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের সুবিধার্থে পূজামণ্ডপগুলোতে এসআরবির যোগাযোগ নম্বর সরবরাহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পূজা আয়োজক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য গুজব ও অপপ্রচারের বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানান এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক। তিনি বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের তৎপরতা প্রতিরোধে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো তথ্য কিংবা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শনাক্ত হলে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে তা মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এসআরবি-৭ এর অধিনায়ক শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।