প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থায় নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রচলিত পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী প্রবর্তক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইন্দু নন্দন দত্তের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাঈদ আল নোমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হলে শিক্ষার প্রচলিত কাঠামোর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের পরিচিত ও দক্ষ করে তুলতে হবে।তিনি আরও বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। আগামী দিনের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নতুন প্রজন্মকে এখন থেকেই যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, আরও পড়ুন, কসবায় উৎসব মুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবেচট্টগ্রামের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অধ্যাপক রীতা দত্ত ও সালাহ্ উদ্দীন মোহাম্মদ রেজা।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজনের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক দীপন কান্তি দাশ। তিনি বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সার্বিক আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুচিত্রা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে প্রধান অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অগ্রগতি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।এদিকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা পর্বের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে ভিন্নমাত্রা দেয়। প্রবর্তক সংঘের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে উপজীব্য করে জারি গান পরিবেশন করে প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক দল। দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীল প্রতিভার প্রকাশ ঘটায়।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ মনোজ কুমার দেবের রচনা ও সুরে প্রবর্তকের ইতিহাস-ঐতিহ্যনির্ভর পরিবেশনা এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আবৃত্তি অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক মুক্তা দত্ত ও সিনিয়র শিক্ষক সীমা রানী দেব। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি সাঈদ আল নোমান। শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে প্রবর্তক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।