গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অফিসের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা চলাকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, দাপ্তরিক কাজে ধীরগতি এবং খাদ্যবান্ধব কার্যক্রমের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আজ সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে সরেজমিনে গিয়ে এক ভিন্ন পরিস্থিতি দেখতে পান এ প্রতিবেদক। অফিস সময়ে সেখানে গিয়ে প্রত্যাশিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি দপ্তরে সকাল সাড়ে ১০টার সময়ও যদি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন কীভাবে—এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে অফিসে উপস্থিত একজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এখনো অফিসে আসেননি। তবে কেন নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল হোসেন সোহেলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন এ প্রতিবেদক। কিন্তু একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও তিনি কোনো সাড়া দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছে দাপ্তরিক বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বক্তব্য পাওয়া সাংবাদিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জনসমক্ষে আসা জরুরি। এ প্রতিবেদকের অভিযোগ, শুধু একদিন নয়, এর আগেও একাধিকবার গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যায়নি। বারবার অফিসে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় সরকারি দপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রম ও কর্মঘণ্টা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি অফিস জনগণের সেবা প্রদানের জায়গা। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিত থাকা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওয়া না গেলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পাশাপাশি সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।আরও পড়ুন, গাজীপুরে ডিবির পৃথক অভিযানে ২ হাজার ৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২অন্যদিকে, গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসকে ঘিরে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ডিলারদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং রাতের আঁধারে খাদ্যপণ্য বিক্রির মতো অনিয়ম ঘটতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার, ভুক্তভোগী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি খাদ্যশস্য ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পণ্য বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা জরুরি। সরকারি খাদ্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের কল্যাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব পণ্য বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, অর্থ লেনদেন কিংবা নিয়মবহির্ভূত বিক্রির ঘটনা ঘটলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এ প্রতিবেদক। একই সঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, অফিস সময় যথাযথভাবে পালন, দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং ডিলারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি যাচাই, হাজিরা খাতা পরীক্ষা, খাদ্যপণ্য বিতরণ ও বিক্রির রেজিস্টার পর্যালোচনা এবং ডিলারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সরকারি দপ্তর কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তাই নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল হোসেন সোহেলের বক্তব্যও সংবাদে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বার বার তাকে কল দেওয়া হয়েছে সে ধরে নাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।