বাসাইলে ওয়াহিদ খানের মৃত্যু হত্যা, নাকি আত্মহত্যা: প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি
বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ খানের ছেলে মো. ওয়াহিদ খানের মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন মো. ওয়াহিদ খান। দেশে ফিরে তিনি সরাসরি টাঙ্গাইলের কোদালিয়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় যান। ওই বাসায় তাঁর ভাবি, মা ও ভাতিজি ভাড়া থাকতেন বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, গত ২১ অক্টোবর রাতে ওই বাসায় গামছা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহ যেভাবে বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে দাফন সম্পন্ন করা হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, তাঁর ভাবি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান এবং সেখানে দাফন করেন। গামছার দৈর্ঘ্য নিয়েও প্রশ্ন: স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য ও আলোচনায় দাবি করা হচ্ছে, ওয়াহিদ খান যে গামছা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে বলা হচ্ছে, সেটির দৈর্ঘ্য নাকি মাত্র এক থেকে দেড় ফুট। এ তথ্য সঠিক হলে গামছাটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য, কীভাবে সেটি ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি কী ছিল এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা জরুরি। প্রশ্ন উঠছে, কথিত গামছাটির দৈর্ঘ্য যদি সত্যিই এক থেকে দেড় ফুট হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ব্যবহার করে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে? তবে শুধু গামছার দৈর্ঘ্য থেকে মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, গামছাটি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ফরেনসিক তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত সত্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পুলিশকে কেন জানানো হলো না, উঠছে সেই প্রশ্ন: যে বাসায় তার ভাবি মা ও ভাতিজি ভাড়া থাকতেন, সেখানে ওয়াহিদের মৃত্যু হয়।আরও পড়ুন,সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদ, সাতক্ষীরায় ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামতাঁর মৃত্যুর পর বাড়ির মালিককে জানানো হলো না কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে কেন অবহিত করা হয়নি এবং মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে না কেন? সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বিরোধের অভিযোগ: এলাকাবাসীর কয়েকজনের দাবি, ওয়াহিদ খানের সঙ্গে তাঁর ভাবি ও মামার টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে ছিলেন এবং অবিবাহিত ছিলেন বলেও জানা গেছে। তাঁর ভাবির স্বামীও প্রবাসে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তাই তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি: ওয়াহিদ খানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, সংশ্লিষ্ট থানা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বত কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হোক। প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা করা হোক। ঘটনাস্থল, কথিত গামছা, মৃত্যুর সময়কার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা হোক। কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একজন প্রবাসফেরত যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়ার বাসার মালিক ডা. মাসুদুর রহমান জানান, আমার বাসার ভাড়াটিয়া আত্মহতা করে মারা গেছে কিনা তা জানি না। কেউ আমাকে কোন খবর দেয়নি। এ বিষয়ে ফুলকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল আলম বিজু মোবাইলে জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।