দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ইয়াসমিন হত্যার ৩১ বছর পরও থামেনি ধর্ষণের পর হত্যা, ৭ মাসেই ৫৮ জন নির্যাতন

৩১ বছর আগে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের আগুন জ্বেলেছিল, সেই ইয়াসমিন হত্যার তিন দশক পরও থামেনি নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা।বরং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র—আসকের তথ্য বলছে, গত বছর পুরো ১২ মাসে ৫৫ জন ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হলেও চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। মাসিক গড় হিসাবে এ ধরনের অপরাধ বেড়েছে ৮১ শতাংশ।এমন বাস্তবতার মধ্যেই আজ ২৪ আগস্ট পালিত হচ্ছে ইয়াসমিন হত্যা দিবস, যা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবেও পরিচিত।১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমিন পুলিশ সদস্যদের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত হন। পরে সেই আন্দোলন দেশব্যাপী নারী অধিকার আন্দোলনের রূপ নেয়।আরও  পড়ুন, প্রথমবার জাতিসংঘ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানমানবাধিকারকর্মীদের মতে, ধর্ষণের পর হত্যার পেছনে অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলা, ভুক্তভোগীকে চুপ করিয়ে দেওয়া কিংবা পরিচয় প্রকাশের ভয় কাজ করে। সমাজের অস্থিরতা, মাদকের বিস্তার এবং বিচারহীনতাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৭৪৯টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ৫৬৯টি একক এবং ১৮০টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা।বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুধু কঠোর আইন করলেই হবে না; দ্রুত তদন্ত, মেডিকেল পরীক্ষা, ডিএনএ ও ফরেনসিক আলামত সংরক্ষণ, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।ইয়াসমিন হত্যার ৩১ বছর পরও প্রশ্ন রয়ে গেছে—আর কত প্রাণ গেলে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে ।

ইয়াসমিন হত্যার ৩১ বছর পরও থামেনি ধর্ষণের পর হত্যা, ৭ মাসেই ৫৮ জন নির্যাতন