সাতক্ষীরার দেবহাটায় হাসপাতালে ঢুকে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও এসআরবি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ফজলুল হক আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী রুহুল আমিনের ছেলে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দেবহাটা সার্কেল, কালিগঞ্জ থানা, দেবহাটা থানা ও এসআরবি-৬-এর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে তাকে বাড়িতে মারধর করা হয়। আরও পড়ুন, পবিত্র ওমরাহ পালন করতে গিয়ে মক্কায় বাঘার জহুরা বেওয়ার মৃত্যুপরদিন ১৪ অক্টোবর কুলিয়ার এমএ সবুরের ক্লিনিক থেকে তাকে বের করে নেওয়া হয়। পরে রাতে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে চিকিৎসক, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওয়াহিদুজ্জামান ওরফে শামীম দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে গত ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনী, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম এবং ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ও সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলামসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরদিন ভোরে পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি মোক্তার হোসেন খান ও আসাদুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। এদিকে মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তে নতুন অগ্রগতির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে স্থানীয়দের।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।