দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মাদারগঞ্জে আইনি বেড়াজালে আটকে আছে জব্দকৃত 'চায়না দুয়ারী' জাল, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দেশীয় মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জালের রমরমা বাণিজ্য চলছে। সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিক বস্তুনিষ্ঠ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম তারতাপাড়া জামাইবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৬ লাখ টাকা মূল্যের ৮৬২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র আইনের ফাঁকফোকর ও অদৃশ্য বেড়াজালের সুযোগ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বিল ও নদীমাতৃক এলাকায় এসব ক্ষতিকর জাল সরবরাহ করে আসছে। চায়না দুয়ারী জালের সূক্ষ্ম ফাঁদে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী আটকা পড়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক প্রজননক্ষম মৎস্যসম্পদ। প্রথমদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নামমাত্র বা নীরব ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠলেও, পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।গত ২৩ জুলাই বিকেলে বালিজুড়ী ইউনিয়নের জামাইবাজার এলাকার একটি গোডাউনে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী ।আরও  পড়ুন, সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বিষাক্ত গ্যাসে নিহত ৮ শ্রমিককমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল দিও। এ সময় গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার করা হয়। এর আগে খরকা বিলেও পৃথক অভিযানে ১২টি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।পরিবেশবাদী ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মতে, শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু জাল জব্দ করলেই এই অবৈধ কারবার বন্ধ হবে না। এর নেপথ্যের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে স্থায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশীয় মৎস্য প্রজাতি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ জালের ব্যবহার কঠোরভাবে দমন করা হবে।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং জব্দকৃত সকল চায়না দুয়ারী জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশীয় প্রজাতির মাছের বিচরণ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

মাদারগঞ্জে আইনি বেড়াজালে আটকে আছে জব্দকৃত 'চায়না দুয়ারী' জাল, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা