চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবের এই আবহে নারীর শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, মা দুর্গা শুধু অসুরবিনাশিনীর প্রতীক নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস ও জীবনের প্রতিকূলতা জয় করার প্রেরণা। প্রত্যেক নারীর মধ্যেই দুর্গার শক্তি রয়েছে, যা তাঁকে কঠিন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে।দুর্গাপূজার সঙ্গে বাঙালির আবেগের সম্পর্ক তুলে ধরে শ্রাবন্তী বলেন, মা দুর্গা তাঁর কাছে একদিকে দেবী, অন্যদিকে ঘরের মেয়ে উমা। ঢাকের আওয়াজ, শিউলির সুবাস, কাশফুলের সৌন্দর্য আর উৎসবের আনন্দ মিলিয়ে দেবীর আগমন বাঙালির মনে বিশেষ অনুভূতি তৈরি করে। আবার বিসর্জনের মুহূর্তে নেমে আসে বিষণ্নতা। দেবীর আগমন ও বিদায়ের মধ্য দিয়েই বাঙালির দুর্গাপূজার আবেগ ও ঐতিহ্য বেঁচে থাকে বলে মনে করেন তিনি।আরও পড়ুন, মামুনের সঙ্গে প্রেম সাবিলারনিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অভিনেত্রী জানান, তাঁর বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। এ কারণে তাঁর মা একাই তাঁকে ও তাঁর দিদিকে সামলেছেন। সংসারের দায়িত্ব পালন এবং নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে মায়ের যে দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস তিনি দেখেছেন, সেখান থেকেই নারীর প্রকৃত শক্তি সম্পর্কে উপলব্ধি তৈরি হয়েছে।‘দেবী চৌধুরানী’ চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান শ্রাবন্তী। চরিত্রটির সাহস, প্রতিবাদী মনোভাব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা তাঁকে শিখিয়েছে, জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।এক দিনের জন্য দশভূজা হওয়ার সুযোগ পেলে সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিশু নির্যাতন বন্ধ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেতিবাচকতা দূর করার উদ্যোগ নিতেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর ভাবনায়, দুর্গোৎসবের প্রকৃত শিক্ষা শুধু উৎসব উদ্যাপনে নয়; বরং শক্তি, সাহস ও মানবিকতার চর্চার মধ্যেও নিহিত।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।