দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের জিম্মিতে ইপিজেডের ব্যবসায়ীরা

চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের জিম্মিতে ইপিজেডের ব্যবসায়ীরা
চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের জিম্মিতে ইপিজেডের ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রামের ইপিজেড ও কর্ণফুলী এলাকার সরকারি রেলওয়ের শত কোটি টাকার মূল্যবান জমি দখল করে গড়ে উঠেছে বিশালাকার অবৈধ সাম্রাজ্য। রেললাইনের দুই পাশে গড়ে ওঠা শত শত দোকানপাট ও ভাসমান বসতি থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি ও ভাড়াবাণিজ্য চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত ‘সংগঠনের’ নামে হাত ও ফুট মেপে রেলের জমি বন্টন করে এই চাঁদার টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছে চক্রটি। ফুট মেপে জমি বরাদ্দ, ‘সংগঠনের’ নামে তোলা হয় চাঁদা রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ এই বাণিজ্যের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক চায়ের দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, "এখানে যে কেউ এসে দোকান বসাতে পারে না। মোহাম্মদ কবির, মোহাম্মদ সুমন এবং মোহাম্মদ মোস্তফা নামের তিন ব্যক্তি ফিতা বা হাত দিয়ে মেপে জায়গা নির্ধারণ করে দেন। দোকান বসানোর আগেই এককালীন বড় অংকের টাকা দিতে হয়। এরপর বিভিন্ন 'সংগঠনের' দোহাই দিয়ে তোলা হয় দৈনিক ও মাসিক চাঁদা।" তিনি আরও জানান, উত্তোলিত চাঁদার একটি বড় অংশ এই তিনজনের হাত ঘুরে সিন্ডিকেটের বিভিন্ন স্তরে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়। নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা ও রেলের সংরক্ষিত এলাকা দখল করে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছেন। সংবাদকর্মী পরিচয় শুনে ‘চা খাওয়ার’ প্রস্তাব! রেলওয়ের জমি জবরদখল ও প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও আইনি ব্যাখ্যা নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মোহাম্মদ কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। 

আরও পড়ুন,কসবায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হুমকির ভয়ে ৩ দিন পর মামলা

অবৈধ দখল ও ভাড়াবাজির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অনিয়মের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো তিনি ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সংবাদকর্মীকে ফোন রেখে সরাসরি দেখা করে ‘চা খাওয়ার’ প্রস্তাব দেন তিনি। তার এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক প্রস্তাবে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চরম ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ ও ট্রেন চলাচল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইপিজেড এলাকায় প্রবেশের মুখে হাতের ডানপাশে পড়ে থাকা রেললাইনের দুই পাশ সম্পূর্ণ গ্রাস করে ফেলেছে এই অবৈধ সাম্রাজ্য। এটি রেলওয়ের জিরো পয়েন্ট বা অত্যন্ত সংরক্ষিত এলাকা হলেও কোনো তোয়াক্কা না করেই স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানপাট ও ভাসমান বাসা-বাড়ি বানিয়ে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে ট্রেন চলাচল এবং পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের যৌথ অভিযান ও শাস্তির দাবি সরকারি সম্পদ রক্ষা, নিরাপদ করা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। স্থানীয় অধিবাসীদের জোরালো দাবি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম স্থানীয় প্রশাসন যেন কালক্ষেপণ না করে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার পাশাপাশি কবির, সুমন ও মোস্তফাসহ নেপথ্যে থাকা সকল মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিষয় : চাঁদাবাজি ব্যবসায়ী ইপিজেড

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের জিম্মিতে ইপিজেডের ব্যবসায়ীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের ইপিজেড ও কর্ণফুলী এলাকার সরকারি রেলওয়ের শত কোটি টাকার মূল্যবান জমি দখল করে গড়ে উঠেছে বিশালাকার অবৈধ সাম্রাজ্য। রেললাইনের দুই পাশে গড়ে ওঠা শত শত দোকানপাট ও ভাসমান বসতি থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি ও ভাড়াবাণিজ্য চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত ‘সংগঠনের’ নামে হাত ও ফুট মেপে রেলের জমি বন্টন করে এই চাঁদার টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছে চক্রটি। ফুট মেপে জমি বরাদ্দ, ‘সংগঠনের’ নামে তোলা হয় চাঁদা রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ এই বাণিজ্যের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক চায়ের দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, "এখানে যে কেউ এসে দোকান বসাতে পারে না। মোহাম্মদ কবির, মোহাম্মদ সুমন এবং মোহাম্মদ মোস্তফা নামের তিন ব্যক্তি ফিতা বা হাত দিয়ে মেপে জায়গা নির্ধারণ করে দেন। দোকান বসানোর আগেই এককালীন বড় অংকের টাকা দিতে হয়। এরপর বিভিন্ন 'সংগঠনের' দোহাই দিয়ে তোলা হয় দৈনিক ও মাসিক চাঁদা।" তিনি আরও জানান, উত্তোলিত চাঁদার একটি বড় অংশ এই তিনজনের হাত ঘুরে সিন্ডিকেটের বিভিন্ন স্তরে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়। নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা ও রেলের সংরক্ষিত এলাকা দখল করে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছেন। সংবাদকর্মী পরিচয় শুনে ‘চা খাওয়ার’ প্রস্তাব! রেলওয়ের জমি জবরদখল ও প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও আইনি ব্যাখ্যা নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মোহাম্মদ কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। 

আরও পড়ুন,কসবায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হুমকির ভয়ে ৩ দিন পর মামলা

অবৈধ দখল ও ভাড়াবাজির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অনিয়মের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো তিনি ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সংবাদকর্মীকে ফোন রেখে সরাসরি দেখা করে ‘চা খাওয়ার’ প্রস্তাব দেন তিনি। তার এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক প্রস্তাবে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চরম ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ ও ট্রেন চলাচল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইপিজেড এলাকায় প্রবেশের মুখে হাতের ডানপাশে পড়ে থাকা রেললাইনের দুই পাশ সম্পূর্ণ গ্রাস করে ফেলেছে এই অবৈধ সাম্রাজ্য। এটি রেলওয়ের জিরো পয়েন্ট বা অত্যন্ত সংরক্ষিত এলাকা হলেও কোনো তোয়াক্কা না করেই স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানপাট ও ভাসমান বাসা-বাড়ি বানিয়ে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে ট্রেন চলাচল এবং পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের যৌথ অভিযান ও শাস্তির দাবি সরকারি সম্পদ রক্ষা, নিরাপদ করা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। স্থানীয় অধিবাসীদের জোরালো দাবি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম স্থানীয় প্রশাসন যেন কালক্ষেপণ না করে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার পাশাপাশি কবির, সুমন ও মোস্তফাসহ নেপথ্যে থাকা সকল মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের জিম্মিতে ইপিজেডের ব্যবসায়ীরা
0:00 0:00
1.0x