বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা সংকটের মুখে। কমছে প্রবৃদ্ধির গতি, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ। দুর্বল হয়ে পড়ছে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। এর মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের, আইএমএফের, অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দুর্বলতা এবং ব্যাংক খাতের অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ উঠে এসেছে। জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায়েও চাপ তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন,চীনের মাংসে বিশ্ববাজারে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতির ওপর প্রকাশিত শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অর্থের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স কাজ করছে। এতে রয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। এ ছাড়া পাচার হওয়া অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে কয়েকটি দেশকে চিহ্নিত করে আইনি সহযোগিতার চেষ্টা চলছে। তবে অর্থপাচারকারীরা একাধিক দেশ ও আর্থিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অর্থ স্থানান্তর করায় সম্পদের চূড়ান্ত অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অর্থ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, নির্ভরযোগ্য তদন্ত, পর্যাপ্ত প্রমাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া জরুরি। অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; অন্যদিকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগও জোরদার করতে হবে। অর্থ ফেরত আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্থপাচার ঠেকাতে জবাবদিহি ও আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা সংকটের মুখে। কমছে প্রবৃদ্ধির গতি, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ। দুর্বল হয়ে পড়ছে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। এর মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের, আইএমএফের, অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দুর্বলতা এবং ব্যাংক খাতের অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ উঠে এসেছে। জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায়েও চাপ তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন,চীনের মাংসে বিশ্ববাজারে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতির ওপর প্রকাশিত শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অর্থের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স কাজ করছে। এতে রয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। এ ছাড়া পাচার হওয়া অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে কয়েকটি দেশকে চিহ্নিত করে আইনি সহযোগিতার চেষ্টা চলছে। তবে অর্থপাচারকারীরা একাধিক দেশ ও আর্থিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অর্থ স্থানান্তর করায় সম্পদের চূড়ান্ত অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অর্থ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, নির্ভরযোগ্য তদন্ত, পর্যাপ্ত প্রমাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া জরুরি। অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; অন্যদিকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগও জোরদার করতে হবে। অর্থ ফেরত আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্থপাচার ঠেকাতে জবাবদিহি ও আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন