নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন মাকছুদা হোসেন (৪৬) নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন মামলার বাদী।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন আলামিন (৪৫), সাকিব (৩৫), সুমন (৩২), ফকরুদ্দিন (৩৫), রনি (২৮), ইসরাফিল (৩০), সুমন মিয়া (২৮), শফিকুল ইসলাম (৫৫) ও মোক্তার (৩২)। তাঁদের সবার ঠিকানা সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের পানাম গাবতলী এলাকায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালে ওই এলাকার আরএস ৯৫ নম্বর দাগে ১৭ শতাংশ ভিটাজমি কেনেন মাকছুদা হোসেন। পরে জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করে তিনি জমিটি ভোগদখলে রাখেন বলে দাবি করেছেন।বাদীর অভিযোগ, জমি কেনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর কাছে ‘মিষ্টি খাওয়ার’ কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।
আরও পড়ুন, কোটালীপাড়ায় খাল দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ
ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে জমির সীমানাপ্রাচীর দুই দফায় ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় প্রাচীরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।এ ছাড়া জমিতে রাখা ২ হাজার ৫০০টি ইট, যার আনুমানিক মূল্য ৩৩ হাজার টাকা, এবং ১৫ বস্তা সিমেন্ট, যার মূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দাবিকৃত টাকা না দিয়ে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে খুন-জখমসহ বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এ ঘটনায় সি.আর. ১০৬০/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত বলে জানিয়েছেন বাদী।সংবাদ সম্মেলনে মাকছুদা হোসেন অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
বিষয় : চাঁদা দাবি আদালতে মামলা

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন মাকছুদা হোসেন (৪৬) নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন মামলার বাদী।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন আলামিন (৪৫), সাকিব (৩৫), সুমন (৩২), ফকরুদ্দিন (৩৫), রনি (২৮), ইসরাফিল (৩০), সুমন মিয়া (২৮), শফিকুল ইসলাম (৫৫) ও মোক্তার (৩২)। তাঁদের সবার ঠিকানা সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের পানাম গাবতলী এলাকায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালে ওই এলাকার আরএস ৯৫ নম্বর দাগে ১৭ শতাংশ ভিটাজমি কেনেন মাকছুদা হোসেন। পরে জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করে তিনি জমিটি ভোগদখলে রাখেন বলে দাবি করেছেন।বাদীর অভিযোগ, জমি কেনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর কাছে ‘মিষ্টি খাওয়ার’ কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।
আরও পড়ুন, কোটালীপাড়ায় খাল দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ
ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে জমির সীমানাপ্রাচীর দুই দফায় ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় প্রাচীরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।এ ছাড়া জমিতে রাখা ২ হাজার ৫০০টি ইট, যার আনুমানিক মূল্য ৩৩ হাজার টাকা, এবং ১৫ বস্তা সিমেন্ট, যার মূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দাবিকৃত টাকা না দিয়ে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে খুন-জখমসহ বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এ ঘটনায় সি.আর. ১০৬০/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত বলে জানিয়েছেন বাদী।সংবাদ সম্মেলনে মাকছুদা হোসেন অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন