দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

সংবাদ দিগন্তের বান্দরবান প্রতিনিধিকে আবারও প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি: লামা থানায় জিডি

সংবাদ দিগন্তের বান্দরবান প্রতিনিধিকে আবারও প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি: লামা থানায় জিডি

কসবায় ভুয়া জন্মনিবন্ধনের আবেদনে দোষ স্বীকার, ব্যক্তির এক মাসের কারাদণ্ড

কসবায় ভুয়া জন্মনিবন্ধনের আবেদনে দোষ স্বীকার, ব্যক্তির এক মাসের কারাদণ্ড

লামায় তরুণীর লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা, দুই যুবক আটক

লামায় তরুণীর লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা, দুই যুবক আটক

সোনারগাঁয়ে মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, হাফ ভাড়ার দাবিতে আল্টিমেটাম

সোনারগাঁয়ে মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, হাফ ভাড়ার দাবিতে আল্টিমেটাম

গোবিপ্রবিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় শিক্ষার্থীদের নবীণ বরণ-২০২৬

গোবিপ্রবিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় শিক্ষার্থীদের নবীণ বরণ-২০২৬

টুঙ্গিপাড়ায় ৩০০ জেলে পরিবারের মাঝে সাড়ে ৭ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বিতরণ

টুঙ্গিপাড়ায় ৩০০ জেলে পরিবারের মাঝে সাড়ে ৭ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বিতরণ

সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা: দুই আসামির ৫ দিনের রিমান্ড

সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা: দুই আসামির ৫ দিনের রিমান্ড

বাসন থানার বিশেষ অভিযানে ধর্ষণ মামলার আসামীসহ ৩ জন গ্রেফতার

বাসন থানার বিশেষ অভিযানে ধর্ষণ মামলার আসামীসহ ৩ জন গ্রেফতার

পাটের দামে স্বস্তি, লাভের মুখ দেখছেন পাঁচবিবির কৃষক

পাটের দামে স্বস্তি, লাভের মুখ দেখছেন পাঁচবিবির কৃষক
লাভের মুখ দেখছেন পাঁচবিবির কৃষক

গত কয়েক বছর পাটের ফলন বিপর্যয়, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনেছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাটচাষিরা। তবে চলতি মৌসুমে অনেক কৃষকের জমিতে পাটের গাছ মরে যাওয়ার পরও আশানুরূপ ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম থাকায় এবার সোনালি আঁশ পাট চাষ করে লাভের আশা করছেন কৃষকেরা। এতে তাঁদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে হালচাষ, সার, কীটনাশক, নিড়ানী, পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর শ্রমিক মজুরিসহ পাট উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, অনেক সময় পাটের বাজারদর উৎপাদন খরচের তুলনায় কম থাকায় লোকসানে পড়তে হয়েছে চাষিদের। এতে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন অনেক কৃষক।উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের পূর্ব কড়িয়া গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন নওশাদ প্রতিবছর ৩ থেকে ৪ একর জমিতে পাট চাষ করতেন। কিন্তু হালচাষ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে তিনি পাটের আবাদ কমিয়ে দেন। চলতি মৌসুমে মাত্র এক একর জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি।নুরুল আমিন নওশাদ বলেন, “এবার বাজারে পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম থাকায় পাট চাষ করে লাভবান হওয়ার আশা করছি।”ধরঞ্জী গ্রামের পাটচাষি নুরুল ইসলাম এবার দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। 

আরও  পড়ুন, সৈনিক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, গোবিন্দগঞ্জে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

তিনি জানান, হালচাষ, নিড়ানী, সার-কীটনাশক, পাট কর্তন ও আঁশ ছাড়ানোসহ প্রতি বিঘায় তাঁর প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদন হচ্ছে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে পুরোনো পাট প্রতি মণ ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং নতুন পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে কৃষকের ঘরে পাট ওঠার পর থেকে বাজারে দাম কিছুটা কমতে শুরু করে। বর্তমানে পাঁচবিবি বাজারে পাটের মান ও ধরনভেদে প্রতি মণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরিয়ারা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দরে পাট কিনছেন।তবে ফরিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগও রয়েছে কৃষকদের। তাঁদের অভিযোগ, পাট কেনার সময় ‘ধলতা’ বা অতিরিক্ত ওজনের নামে প্রতি মণে প্রায় এক কেজি বেশি পাট নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য থেকে কৃষকেরা কিছুটা বঞ্চিত হচ্ছেন।পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন বলেন, “এ বছর পাঁচবিবি উপজেলায় ১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা এ বছর পাট বিক্রি করে প্রত্যাশিত আয় করতে পারবেন।”কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাটের বর্তমান বাজারদর কৃষকদের অনুকূলে থাকলে আগামী মৌসুমে পাঁচবিবিতে পাটের আবাদ আরও বাড়তে পারে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনাও আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিষয় : দামে স্বস্তি উৎপাদন খরচ আশানুরূপ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


পাটের দামে স্বস্তি, লাভের মুখ দেখছেন পাঁচবিবির কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গত কয়েক বছর পাটের ফলন বিপর্যয়, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনেছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাটচাষিরা। তবে চলতি মৌসুমে অনেক কৃষকের জমিতে পাটের গাছ মরে যাওয়ার পরও আশানুরূপ ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম থাকায় এবার সোনালি আঁশ পাট চাষ করে লাভের আশা করছেন কৃষকেরা। এতে তাঁদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে হালচাষ, সার, কীটনাশক, নিড়ানী, পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর শ্রমিক মজুরিসহ পাট উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, অনেক সময় পাটের বাজারদর উৎপাদন খরচের তুলনায় কম থাকায় লোকসানে পড়তে হয়েছে চাষিদের। এতে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন অনেক কৃষক।উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের পূর্ব কড়িয়া গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন নওশাদ প্রতিবছর ৩ থেকে ৪ একর জমিতে পাট চাষ করতেন। কিন্তু হালচাষ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে তিনি পাটের আবাদ কমিয়ে দেন। চলতি মৌসুমে মাত্র এক একর জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি।নুরুল আমিন নওশাদ বলেন, “এবার বাজারে পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম থাকায় পাট চাষ করে লাভবান হওয়ার আশা করছি।”ধরঞ্জী গ্রামের পাটচাষি নুরুল ইসলাম এবার দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। 

আরও  পড়ুন, সৈনিক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, গোবিন্দগঞ্জে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

তিনি জানান, হালচাষ, নিড়ানী, সার-কীটনাশক, পাট কর্তন ও আঁশ ছাড়ানোসহ প্রতি বিঘায় তাঁর প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদন হচ্ছে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে পুরোনো পাট প্রতি মণ ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং নতুন পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে কৃষকের ঘরে পাট ওঠার পর থেকে বাজারে দাম কিছুটা কমতে শুরু করে। বর্তমানে পাঁচবিবি বাজারে পাটের মান ও ধরনভেদে প্রতি মণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরিয়ারা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দরে পাট কিনছেন।তবে ফরিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগও রয়েছে কৃষকদের। তাঁদের অভিযোগ, পাট কেনার সময় ‘ধলতা’ বা অতিরিক্ত ওজনের নামে প্রতি মণে প্রায় এক কেজি বেশি পাট নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য থেকে কৃষকেরা কিছুটা বঞ্চিত হচ্ছেন।পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন বলেন, “এ বছর পাঁচবিবি উপজেলায় ১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা এ বছর পাট বিক্রি করে প্রত্যাশিত আয় করতে পারবেন।”কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাটের বর্তমান বাজারদর কৃষকদের অনুকূলে থাকলে আগামী মৌসুমে পাঁচবিবিতে পাটের আবাদ আরও বাড়তে পারে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনাও আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
পাটের দামে স্বস্তি, লাভের মুখ দেখছেন পাঁচবিবির কৃষক
0:00 0:00
1.0x