১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের পর এই নির্বাচন ঘিরে দেশের মানুষের মধ্যে অপেক্ষা ও কৌতূহল ব্যাপক। ভোটের দিন সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোর প্রচার চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন গণমুখী ও অধিক গ্রহণযোগ্য করতে আগের ১২টি সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশি ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ আর নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ১২০ জন। এবার সর্বোচ্চসংখ্যক তরুণ ভোটার তাদের জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন; যা ভোটের হার বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১২টি নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোট পড়ে, যা দেশের নির্বাচন ইতিহাসে নজিরবিহীন। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার ওপর ভোটার উপস্থিতির হার যে নির্ভর করে, এ তথ্যগুলো তারই প্রতিফলন।
আরো পড়ুন , দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার সাক্ষাৎ
এবারের নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কতটা প্রভাবিত হবে তা নিয়ে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অধিকাংশ দল অংশগ্রহণ করলেও অনেকের ধারণা, দলটির অনুপস্থিতিতে ভোটের হার কমে যেতে পারে। বিশেষ করে পরিচিত ও কট্টর আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ কেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। হামলা বা মামলার আশঙ্কা তাদের অনেককে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থকের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে। তবে আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক নন এমন অনেকের ভিতরেই পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। নিরাপদ পরিবেশ দেখলে তারা ভোট দিতে যেতে চান। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামী লীগের সব ভোটার এক রকম নন। যারা কট্টর নন তাদের একটি বড় অংশ ভোট দিতে যেতে পারেন, বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। আবার কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিএনপি ও জামায়াতে যোগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক তিন ভাগে বিভক্ত হতে পারে। এক অংশ ভোটে অংশ নেবে না, এক অংশ ব্যালট নষ্ট করতে পারে এবং আরেক অংশ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প দল বা প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে সুবিধাবাদীদের জায়গা দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন করেছে। ফলে বর্তমান সংকটে প্রকৃত সমর্থক আর সুবিধাভোগীর পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভোটের হার ও ভোটের আচরণই আগামী দিনে আওয়ামী লীগের প্রকৃত সামাজিক সমর্থনের একটি চিত্র তুলে ধরবে। এ বাস্তবতায় ভোটের হার শুধু একটি সংখ্যাই নয়, বরং এটি রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যের বড় সূচক হয়ে উঠবে। ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের পর এই নির্বাচন ঘিরে দেশের মানুষের মধ্যে অপেক্ষা ও কৌতূহল ব্যাপক। ভোটের দিন সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোর প্রচার চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন গণমুখী ও অধিক গ্রহণযোগ্য করতে আগের ১২টি সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশি ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ আর নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ১২০ জন। এবার সর্বোচ্চসংখ্যক তরুণ ভোটার তাদের জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন; যা ভোটের হার বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১২টি নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোট পড়ে, যা দেশের নির্বাচন ইতিহাসে নজিরবিহীন। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার ওপর ভোটার উপস্থিতির হার যে নির্ভর করে, এ তথ্যগুলো তারই প্রতিফলন।
আরো পড়ুন , দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার সাক্ষাৎ
এবারের নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কতটা প্রভাবিত হবে তা নিয়ে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অধিকাংশ দল অংশগ্রহণ করলেও অনেকের ধারণা, দলটির অনুপস্থিতিতে ভোটের হার কমে যেতে পারে। বিশেষ করে পরিচিত ও কট্টর আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ কেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। হামলা বা মামলার আশঙ্কা তাদের অনেককে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থকের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে। তবে আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক নন এমন অনেকের ভিতরেই পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। নিরাপদ পরিবেশ দেখলে তারা ভোট দিতে যেতে চান। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামী লীগের সব ভোটার এক রকম নন। যারা কট্টর নন তাদের একটি বড় অংশ ভোট দিতে যেতে পারেন, বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। আবার কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিএনপি ও জামায়াতে যোগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক তিন ভাগে বিভক্ত হতে পারে। এক অংশ ভোটে অংশ নেবে না, এক অংশ ব্যালট নষ্ট করতে পারে এবং আরেক অংশ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প দল বা প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে সুবিধাবাদীদের জায়গা দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন করেছে। ফলে বর্তমান সংকটে প্রকৃত সমর্থক আর সুবিধাভোগীর পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভোটের হার ও ভোটের আচরণই আগামী দিনে আওয়ামী লীগের প্রকৃত সামাজিক সমর্থনের একটি চিত্র তুলে ধরবে। এ বাস্তবতায় ভোটের হার শুধু একটি সংখ্যাই নয়, বরং এটি রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যের বড় সূচক হয়ে উঠবে। ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন