দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা ছাড়লেন না আসিফ-মাহফুজ

পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা ছাড়লেন না আসিফ-মাহফুজ
উপদেষ্টা পরিষদে দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম।

গেল বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন উপদেষ্টা পরিষদে দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছিল, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে। ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়।  আর গত ২৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরীর পদত্যাগের খবর জানানো হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে।সে হিসাবে আসিফ ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করার পর ৫০ দিন ধরে সরকারি বাসায় রয়েছেন।

এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তবে সরকারি বাসা ছেড়েছেন বলে দাবি করলেও বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হেয়ার রোডে বাসা ‘নিলয়-৬’ এ গিয়ে একজন দায়িত্বরত কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি এখনো বাসা ব্যবহার করছেন। তার বাসায় দায়িত্বরত আরেকজন কর্মচারীও বলেন, ‘স্যার তো আছেন, বাসা ছাড়েননি।’তবে ২৭ বছর বয়সী সাবেক এই উপদেষ্টা বেশিরভাগ সময় পরিবাগের বাসায় থাকেন, বলেন তিনি।নিলয়-৬ এর আশপাশের উপদেষ্টাদের বাসায় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য বলেন, এখানে তিনি নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন, লোকজন নিয়ে আসেন, এখানে থাকেন।


আরো পড়ুন , সেনাবাহিনী নির্বাচনে নীতি ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে: সেনাপ্রধান


৩০ বছর বয়সী মাহফুজ বলেন, নীতিমালায় বাসা ছাড়ার বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ নেই। তবে নির্বাচনের আগে আমি বাসা ছেড়ে দেব।

সাবেক এই দুই উপদেষ্টা কবে নাগাদ বাসা ছাড়বেন বা কত দিন থাকবেন সেই বিষয়ে কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন।

তিনি বলেন, আবাসন বরাদ্দ নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর দুই মাস পর্যন্ত বাসভবনে থাকতে পারবেন। তবে সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত হলে আরও চার মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন। কোনো সরকারি কর্মচারী বদলি হলেও এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই মাস, সন্তান পড়াশোনা করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকার সুযোগ পান। তবে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের বিষয়ে কোনো সময় উল্লেখ নেই।

সাবেক দুই উপদেষ্টা এখনো বাসা ছাড়েননি জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়টি আমি সচিব স্যারকে অবহিত করেছিলাম, এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো।২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, সেই দিন থেকে সরকারে ছিলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

আর ২০২৪ সালে ২৮ আগস্ট নিয়োগ পেয়ে মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন, ওই বছরের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন।গত বছর ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর মাহফুজ আলমকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পদত্যাগের পরেও আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম সরকারি বাসা না ছাড়ায় নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন ওঠেছে

বিষয় : পদত্যাগ জাতীয় সংসদ আসিফ-মাহফুজ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা ছাড়লেন না আসিফ-মাহফুজ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গেল বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন উপদেষ্টা পরিষদে দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছিল, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে। ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়।  আর গত ২৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরীর পদত্যাগের খবর জানানো হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে।সে হিসাবে আসিফ ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করার পর ৫০ দিন ধরে সরকারি বাসায় রয়েছেন।

এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তবে সরকারি বাসা ছেড়েছেন বলে দাবি করলেও বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হেয়ার রোডে বাসা ‘নিলয়-৬’ এ গিয়ে একজন দায়িত্বরত কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি এখনো বাসা ব্যবহার করছেন। তার বাসায় দায়িত্বরত আরেকজন কর্মচারীও বলেন, ‘স্যার তো আছেন, বাসা ছাড়েননি।’তবে ২৭ বছর বয়সী সাবেক এই উপদেষ্টা বেশিরভাগ সময় পরিবাগের বাসায় থাকেন, বলেন তিনি।নিলয়-৬ এর আশপাশের উপদেষ্টাদের বাসায় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য বলেন, এখানে তিনি নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন, লোকজন নিয়ে আসেন, এখানে থাকেন।


আরো পড়ুন , সেনাবাহিনী নির্বাচনে নীতি ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে: সেনাপ্রধান


৩০ বছর বয়সী মাহফুজ বলেন, নীতিমালায় বাসা ছাড়ার বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ নেই। তবে নির্বাচনের আগে আমি বাসা ছেড়ে দেব।

সাবেক এই দুই উপদেষ্টা কবে নাগাদ বাসা ছাড়বেন বা কত দিন থাকবেন সেই বিষয়ে কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন।

তিনি বলেন, আবাসন বরাদ্দ নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর দুই মাস পর্যন্ত বাসভবনে থাকতে পারবেন। তবে সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত হলে আরও চার মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন। কোনো সরকারি কর্মচারী বদলি হলেও এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই মাস, সন্তান পড়াশোনা করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকার সুযোগ পান। তবে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের বিষয়ে কোনো সময় উল্লেখ নেই।

সাবেক দুই উপদেষ্টা এখনো বাসা ছাড়েননি জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়টি আমি সচিব স্যারকে অবহিত করেছিলাম, এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো।২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, সেই দিন থেকে সরকারে ছিলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

আর ২০২৪ সালে ২৮ আগস্ট নিয়োগ পেয়ে মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন, ওই বছরের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন।গত বছর ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর মাহফুজ আলমকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পদত্যাগের পরেও আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম সরকারি বাসা না ছাড়ায় নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন ওঠেছে



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত