কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা চলাচলের পথে হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হলেও অনেকেই পরিচয় প্রকাশের ভয়ে মুখ খুলতে চান না। সেই নীরবতা ভাঙতে এবং মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে ‘বলুন’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম মুরাদ। গত ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচয় গোপন রেখেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও হয়রানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৫৩টি জেলার ৮০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবং ৫ হাজার ৪০০টিরও বেশি বিভাগ প্ল্যাটফর্মটিতে তালিকাভুক্ত রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় ব্যবহারযোগ্য এই সেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি নিজের নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা কিংবা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের পরিচয় প্রকাশ না করেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার কথা জানাতে পারেন। ‘বলুন’ প্ল্যাটফর্মে শুধু কর্মক্ষেত্র নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, বাস, ট্রেন, লঞ্চ, রাইড শেয়ারিং সেবা, হাসপাতাল, শপিং মল, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং অনলাইন পরিসরে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতাও জানানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভয়, সামাজিক চাপ কিংবা প্রতিশোধের আশঙ্কায় যাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য একটি বিকল্প মাধ্যম তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন,মৌচাকে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত, নতুন কমিটি ঘোষণা
উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম মুরাদ জানান, তাঁর স্ত্রীর প্রথম চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা থেকেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির ধারণা আসে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে সাধারণত বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে জানা গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা কতটা নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানবিক পরিবেশে কাজ করতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। এই বাস্তবতা থেকেই ‘বলুন’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্ল্যাটফর্মটির মূল ভাবনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুরাদ বলেন, “বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে বেতন ও ইনক্রিমেন্ট জানা যায়। কিন্তু সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটির উত্তর আড়ালে থাকে—এই প্রতিষ্ঠানে একজন মানুষ হিসেবে আমি কতটা নিরাপদ, সম্মানিত এবং মানবিক পরিবেশ পাব? এই প্রশ্ন থেকেই ‘বলুন’-এর যাত্রা শুরু।” উদ্যোক্তাদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার বা সেবা নেওয়ার অভিজ্ঞতা অন্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে। কারও অভিজ্ঞতা হয়তো অন্য একজনকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করবে। আবার একই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা একত্র হলে সেখানকার পরিবেশ, আচরণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত হতে পারে। তবে প্ল্যাটফর্মটিতে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া সরাসরি প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে স্প্যাম ও বটের কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়। এরপর মানব মডারেটরদের মাধ্যমে প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে সরাসরি অভিযোগ গ্রহণ না করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বা দুটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে একাধিক অভিজ্ঞতার ধরন বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্কোর তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন, ‘বলুন’ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার কিংবা কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার মাধ্যম নয়।
আরও পড়ুন,প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নিরাপত্তার বলয়ে চট্টগ্রাম ও বিশেষ নজরে জে এম সেন হল
বরং মানুষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও সেবার মান নিয়ে জবাবদিহিতার সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বেনামি পরিচয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কিংবা প্ল্যাটফর্মটির অপব্যবহার রোধ করাও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে পাঁচ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উদ্যোগটি পরিচালনা করছে। ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রতিবেদন না থাকা মানেই প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন। এ ছাড়া ‘বলুন’ কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি পুলিশ, আদালত কিংবা আইনগতভাবে অভিযোগ জানানোর আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবেও কাজ করে না। প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত অভিজ্ঞতা বা অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বর্ণনা হিসেবে মূল্যায়ন করাই গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিচয় প্রকাশের ভয় ছাড়াই মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা জানাতে পারলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, সম্মান ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। গোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম মুরাদের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, নিরপেক্ষ পর্যালোচনা এবং ব্যবহারকারীদের আস্থার ওপর। তবে হয়রানির অভিজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিকল্প ক্ষেত্র তৈরি করে ‘বলুন’ ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক আলোচনার সূচনা করেছে—এমনটাই মনে করছেন উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
বিষয় : শিক্ষার্থী উদ্যোগ গোবিপ্রবির

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা চলাচলের পথে হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হলেও অনেকেই পরিচয় প্রকাশের ভয়ে মুখ খুলতে চান না। সেই নীরবতা ভাঙতে এবং মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে ‘বলুন’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম মুরাদ। গত ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচয় গোপন রেখেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও হয়রানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৫৩টি জেলার ৮০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবং ৫ হাজার ৪০০টিরও বেশি বিভাগ প্ল্যাটফর্মটিতে তালিকাভুক্ত রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় ব্যবহারযোগ্য এই সেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি নিজের নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা কিংবা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের পরিচয় প্রকাশ না করেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার কথা জানাতে পারেন। ‘বলুন’ প্ল্যাটফর্মে শুধু কর্মক্ষেত্র নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, বাস, ট্রেন, লঞ্চ, রাইড শেয়ারিং সেবা, হাসপাতাল, শপিং মল, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং অনলাইন পরিসরে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতাও জানানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভয়, সামাজিক চাপ কিংবা প্রতিশোধের আশঙ্কায় যাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য একটি বিকল্প মাধ্যম তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন,মৌচাকে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত, নতুন কমিটি ঘোষণা
উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম মুরাদ জানান, তাঁর স্ত্রীর প্রথম চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা থেকেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির ধারণা আসে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে সাধারণত বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে জানা গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা কতটা নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানবিক পরিবেশে কাজ করতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। এই বাস্তবতা থেকেই ‘বলুন’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্ল্যাটফর্মটির মূল ভাবনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুরাদ বলেন, “বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে বেতন ও ইনক্রিমেন্ট জানা যায়। কিন্তু সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটির উত্তর আড়ালে থাকে—এই প্রতিষ্ঠানে একজন মানুষ হিসেবে আমি কতটা নিরাপদ, সম্মানিত এবং মানবিক পরিবেশ পাব? এই প্রশ্ন থেকেই ‘বলুন’-এর যাত্রা শুরু।” উদ্যোক্তাদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার বা সেবা নেওয়ার অভিজ্ঞতা অন্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে। কারও অভিজ্ঞতা হয়তো অন্য একজনকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করবে। আবার একই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা একত্র হলে সেখানকার পরিবেশ, আচরণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত হতে পারে। তবে প্ল্যাটফর্মটিতে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া সরাসরি প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে স্প্যাম ও বটের কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়। এরপর মানব মডারেটরদের মাধ্যমে প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে সরাসরি অভিযোগ গ্রহণ না করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বা দুটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে একাধিক অভিজ্ঞতার ধরন বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্কোর তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন, ‘বলুন’ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার কিংবা কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার মাধ্যম নয়।
আরও পড়ুন,প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নিরাপত্তার বলয়ে চট্টগ্রাম ও বিশেষ নজরে জে এম সেন হল
বরং মানুষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও সেবার মান নিয়ে জবাবদিহিতার সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বেনামি পরিচয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কিংবা প্ল্যাটফর্মটির অপব্যবহার রোধ করাও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে পাঁচ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উদ্যোগটি পরিচালনা করছে। ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রতিবেদন না থাকা মানেই প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন। এ ছাড়া ‘বলুন’ কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি পুলিশ, আদালত কিংবা আইনগতভাবে অভিযোগ জানানোর আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবেও কাজ করে না। প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত অভিজ্ঞতা বা অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বর্ণনা হিসেবে মূল্যায়ন করাই গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিচয় প্রকাশের ভয় ছাড়াই মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা জানাতে পারলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, সম্মান ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। গোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম মুরাদের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, নিরপেক্ষ পর্যালোচনা এবং ব্যবহারকারীদের আস্থার ওপর। তবে হয়রানির অভিজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিকল্প ক্ষেত্র তৈরি করে ‘বলুন’ ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক আলোচনার সূচনা করেছে—এমনটাই মনে করছেন উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন