শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান অংশ নেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক। সঞ্চালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মিনা হাবিবুর রহমান।সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ মো. ছামিউল ইমাম আযম মনির, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারত, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিত বিন সফিক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম এবং শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পিয়ার আলী।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু, জোবেদা সাহারা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সাত্তার, সিরাজপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আজিবর রহমান এবং বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমসহ অন্যরা।শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদানের তাগিদ এর বিষয়ে সভায় শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিভাবক সমাবেশ জোরদার করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন, সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বসবে ৮ হাজার ১২১ শিক্ষার্থী
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এর উপর আলোচনা সভায় বক্তারা শ্যামনগরে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কোনো শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া গেলে দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়।মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিত বিন সফিক বলেন, বাল্যবিবাহ একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সাইবার অপরাধ রোধে সচেতনতার পরামর্শের বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, সাইবার বুলিং এবং অশ্লীল কনটেন্টের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দেন শ্যামনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা পিয়ার আলী।তিনি সাইবার অপরাধের শিকার হলে কিংবা জরুরি পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ১০৯ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এরশিক্ষকদের পাশে থাকবে প্রশাসন এমন অঙ্গীকার করে সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও শামসুজ্জামান কনক বলেন, “শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। শ্যামনগরের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আপনাদের ভূমিকা অপরিসীম। বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত একটি আধুনিক ও স্মার্ট শ্যামনগর গড়তে প্রশাসন সব সময় শিক্ষকদের পাশে থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে না।”তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।সভা শেষে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান অংশ নেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক। সঞ্চালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মিনা হাবিবুর রহমান।সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ মো. ছামিউল ইমাম আযম মনির, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারত, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিত বিন সফিক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম এবং শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পিয়ার আলী।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু, জোবেদা সাহারা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সাত্তার, সিরাজপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আজিবর রহমান এবং বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমসহ অন্যরা।শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদানের তাগিদ এর বিষয়ে সভায় শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিভাবক সমাবেশ জোরদার করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন, সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বসবে ৮ হাজার ১২১ শিক্ষার্থী
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এর উপর আলোচনা সভায় বক্তারা শ্যামনগরে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কোনো শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া গেলে দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়।মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিত বিন সফিক বলেন, বাল্যবিবাহ একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সাইবার অপরাধ রোধে সচেতনতার পরামর্শের বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, সাইবার বুলিং এবং অশ্লীল কনটেন্টের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দেন শ্যামনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা পিয়ার আলী।তিনি সাইবার অপরাধের শিকার হলে কিংবা জরুরি পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ১০৯ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এরশিক্ষকদের পাশে থাকবে প্রশাসন এমন অঙ্গীকার করে সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও শামসুজ্জামান কনক বলেন, “শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। শ্যামনগরের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আপনাদের ভূমিকা অপরিসীম। বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত একটি আধুনিক ও স্মার্ট শ্যামনগর গড়তে প্রশাসন সব সময় শিক্ষকদের পাশে থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে না।”তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।সভা শেষে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন