ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। কোথাও সারি সারি ফুলকপি ও বাঁধাকপি, কোথাও শিম, মূলা, লাউ ও পুঁইশাকের সমারোহ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকরা। ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম সবজি। মৌসুমের আগেই বাজারে পণ্য তুলে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের বাড়তি দামে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের দুশ্চিন্তাও বাড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুম শুরুর আগেই সবজি বাজারজাত করতে পারলে সাধারণত চাহিদা ও দাম বেশি পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিবছরই ঝিনাইদহ অঞ্চলে আগাম সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের কৃষক আকিদুল ইসলাম এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুরারিদহ মাঠে কর্মরত কৃষক জহির উদ্দিন জানান, এবার আগাম সবজির ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারেও তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তবে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে।কৃষকরা বলেন, “এবার আগাম সবজির ফলন ভালো হচ্ছে এবং বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি।
আরও পড়ুন, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গাজীপুর-২ আসনের এমপি
কিন্তু সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। সরকার কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখলে আমরা আরও বেশি লাভবান হতে পারব।” সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মফিজ উদ্দিন এবং সাগান্না ইউনিয়নের ফেরদৌস হায়দার জুয়েল জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবজির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে বাড়তি উৎপাদন খরচ সামাল দিয়েও কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার অনেক এলাকার জমি তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় তা সবজি চাষের জন্য উপযোগী। আগাম সবজি আবাদ বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জানান, চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৬ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। ঝিনাইদহের মাটি ও উঁচু জমি সবজি চাষের জন্য অনুকূল হওয়ায় এ অঞ্চলে উৎপাদনের সম্ভাবনা ভালো। কৃষকদের আগাম সবজি চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগাম সবজি চাষ তাঁদের জন্য আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।
বিষয় : বাড়তি উৎপাদন মুখে হাসি, সবজি চাষ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। কোথাও সারি সারি ফুলকপি ও বাঁধাকপি, কোথাও শিম, মূলা, লাউ ও পুঁইশাকের সমারোহ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকরা। ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম সবজি। মৌসুমের আগেই বাজারে পণ্য তুলে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের বাড়তি দামে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের দুশ্চিন্তাও বাড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুম শুরুর আগেই সবজি বাজারজাত করতে পারলে সাধারণত চাহিদা ও দাম বেশি পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিবছরই ঝিনাইদহ অঞ্চলে আগাম সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের কৃষক আকিদুল ইসলাম এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুরারিদহ মাঠে কর্মরত কৃষক জহির উদ্দিন জানান, এবার আগাম সবজির ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারেও তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তবে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে।কৃষকরা বলেন, “এবার আগাম সবজির ফলন ভালো হচ্ছে এবং বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি।
আরও পড়ুন, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গাজীপুর-২ আসনের এমপি
কিন্তু সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। সরকার কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখলে আমরা আরও বেশি লাভবান হতে পারব।” সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মফিজ উদ্দিন এবং সাগান্না ইউনিয়নের ফেরদৌস হায়দার জুয়েল জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবজির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে বাড়তি উৎপাদন খরচ সামাল দিয়েও কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার অনেক এলাকার জমি তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় তা সবজি চাষের জন্য উপযোগী। আগাম সবজি আবাদ বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জানান, চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৬ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। ঝিনাইদহের মাটি ও উঁচু জমি সবজি চাষের জন্য অনুকূল হওয়ায় এ অঞ্চলে উৎপাদনের সম্ভাবনা ভালো। কৃষকদের আগাম সবজি চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগাম সবজি চাষ তাঁদের জন্য আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন