দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার-শুক্রবার সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধের ঘোষণা

বৃহস্পতিবার-শুক্রবার সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধের ঘোষণা
বৃহস্পতিবার-শুক্রবার সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধের ঘোষণা

কমিশন বৃদ্ধি, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক হয়রানি ও অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এ দুই দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টানা দুই দিন সারা দেশের এলপিজি বিক্রির দোকান বন্ধ থাকবে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।এমন সময় এ কর্মসূচির ঘোষণা এলো, যখন বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে একই সিলিন্ডার কিনতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

আরও  পড়ুন, প্রবাস আয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ, ১১ দিনে এলো ১১৬ কোটি ডলার

ব্যবসায়ীদের দাবি, পাঁচ বছর আগে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হলেও পরিবহন, ওঠানো-নামানো, গুদামভাড়া, কর্মচারীর বেতন ও লাইসেন্স ফিসহ পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এসব বিবেচনায় কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহসংকট ও ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতার কথাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁদের দাবি, কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক খালি সিলিন্ডার পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন সরবরাহে অক্ষম কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডারে পুনরায় গ্যাস ভরে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে—কোম্পানির মূল্য সমন্বয়ে বিইআরসির ঘোষণা নিশ্চিত করা, চালানে প্রকৃত দাম উল্লেখ, গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে না দিলে ন্যায্য পরিবহনভাড়া দেওয়া, কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও শুধু রেলিংয়ের কারণে সিলিন্ডারবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা না দেওয়া এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ করা।অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) দেশে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে বলে দাবি করেছে। নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।দোকান বন্ধের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ ভোক্তাদের এলপিজি সংগ্রহে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংকট এড়াতে ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ পরিস্থিতি ও ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিষয় : এলপিজি বন্ধের ঘোষণা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


বৃহস্পতিবার-শুক্রবার সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধের ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কমিশন বৃদ্ধি, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক হয়রানি ও অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এ দুই দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টানা দুই দিন সারা দেশের এলপিজি বিক্রির দোকান বন্ধ থাকবে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।এমন সময় এ কর্মসূচির ঘোষণা এলো, যখন বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে একই সিলিন্ডার কিনতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

আরও  পড়ুন, প্রবাস আয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ, ১১ দিনে এলো ১১৬ কোটি ডলার

ব্যবসায়ীদের দাবি, পাঁচ বছর আগে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হলেও পরিবহন, ওঠানো-নামানো, গুদামভাড়া, কর্মচারীর বেতন ও লাইসেন্স ফিসহ পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এসব বিবেচনায় কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহসংকট ও ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতার কথাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁদের দাবি, কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক খালি সিলিন্ডার পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন সরবরাহে অক্ষম কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডারে পুনরায় গ্যাস ভরে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে—কোম্পানির মূল্য সমন্বয়ে বিইআরসির ঘোষণা নিশ্চিত করা, চালানে প্রকৃত দাম উল্লেখ, গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে না দিলে ন্যায্য পরিবহনভাড়া দেওয়া, কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও শুধু রেলিংয়ের কারণে সিলিন্ডারবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা না দেওয়া এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ করা।অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) দেশে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে বলে দাবি করেছে। নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।দোকান বন্ধের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ ভোক্তাদের এলপিজি সংগ্রহে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংকট এড়াতে ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ পরিস্থিতি ও ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বৃহস্পতিবার-শুক্রবার সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধের ঘোষণা
0:00 0:00
1.0x