কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগকে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভয়ারণ্যে পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। টানা তিন বছর ধরে তিনি কিশোরগঞ্জে দায়িত্বরত থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সরকারি নিয়মনীতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন বলে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২১শে সেপ্টেম্বর জেলার ১৪ জন ভুক্তভোগী ঠিকাদার যৌথভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি গুরুতর অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ সহ তুলে ধরা হয়েছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও রাজস্ব ক্ষতি
অভিযোগের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে পছন্দের সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দেওয়া। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল অন্তত ৮০ শতাংশ কাজ 'লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড' (LTM)-এ সম্পন্ন করতে হবে, যাতে সাধারণ ঠিকাদাররা অংশগ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর এই নিয়ম তোয়াক্কা না করে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছেন 'ওপেন টেন্ডারিং মেথড' (OTM)-এ। অন্তত ৩৫টি ওটিএম টেন্ডারের নোটিশ কোনো বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশই করা হয়নি।
এলটিএম প্রক্রিয়ায় যেখানে ৬০ থেকে ৭০ জন ঠিকাদার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, সেখানে তথ্য গোপন করে ডাকা ওটিএম টেন্ডারে অংশ নেয় মাত্র ৫ থেকে ৭ জন ঠিকাদার। মূলত নিজের পছন্দের ৫-৬ জন ঠিকাদারের মধ্যে কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করার জন্যই এই অপকৌশল অবলম্বন করা হয়, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এক দিনে টেন্ডার, চুক্তি ও বিলের 'অলৌকিক' দ্রুততা
অভিযোগে প্রকাশ পায় এক নজিরবিহীন দুর্নীতির খবর। গত ২১শে জুন কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদের ২৭টি কাজের ওটিএম টেন্ডার আহ্বান করেন নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর। পরদিনই (২২শে জুন) দ্রুততার সাথে চুক্তিপত্র সম্পন্ন করা হয় এবং তার পরের দিন (২৩শে জুন) সম্পূর্ণ বিলের চেক প্রদান করা হয়। মাত্র তিন দিনের মধ্যে ২৭টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে পুরো টাকা তুলে দেওয়া হয় তার ঘনিষ্ঠ ৫ জন ঠিকাদারের হাতে।বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও একইভাবে পিপিআর লঙ্ঘন করে কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করেন তিনি। পাশাপাশি ওই অর্থবছরে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (APP) ভুক্ত কাজের প্রকৃত বিল না মিটিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে টাকা তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।কোটি টাকার ফান্ড তছরুপ ও নাটোরে প্রাসাদপ্রকৌশলী জাহাঙ্গীর কিশোরগঞ্জে যোগদানের পর পরই নিজের সরকারি বাসভবন সংস্কারের নামে বিপুল অর্থ অপচয় করেন। এ ছাড়া ঠিকাদারদের ৫ শতাংশ সিকিউরিটি মানির হিসাব গরমিল করে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরে ঈদুল আজহার ঠিক আগে ঢাকার এক পরিচিত ঠিকাদারের নামে ৯টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়।
মিঠামইন শিল্পকলা একাডেমি, আইনজীবী ভবন, বিভিন্ন থানা ভবন এবং মডেল মসজিদসহ একাধিক বড় প্রকল্পের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, অগ্রিম বিল ছাড় করা এবং ভ্যালুয়েশন ফর্মে মিঠামইন শিল্পকলার বাউন্ডারি ওয়াল ও পাইলিংয়ের অতিরিক্ত অনুমোদন এনে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির এই অর্থে তিনি নিজ জেলা নাটোরে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং ঢাকার উত্তরায় ১০ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
অফিসে অনুপস্থিতি, বিনা ছুটিতে অবস্থান ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসরকারি ছুটির নিয়মকানুন ও কর্মঘণ্টা না মানার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সপ্তাহে মাত্র ২-৩ দিন অফিসে থাকেন তিনি। কোনো সেবাগ্রহীতা বা ঠিকাদার অফিসে দেখা করতে গেলে জানানো হয় ‘তিনি ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন’। ব্যক্তিগত কাজে ঢাকা ও নাটোরে যাতায়াতের জন্য প্রতিনিয়ত ব্যবহার করা হয় সরকারি গাড়ি।২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি বিদেশ ভ্রমণের জন্য আবেদন করলেও ছুটি মঞ্জুর হয়নি। অথচ ছুটি না পাওয়া সত্ত্বেও তিনি সরকারি কর্মস্থল ত্যাগ করে টানা ঢাকায় অবস্থান করেন এবং নিজের চিকিৎসাধীন ও নির্মাণাধীন ১০ তলা বাড়ির তদারকি করেন।
অন্যদিকে সরকারি সম্পদ রক্ষায় তার চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে কিশোরগঞ্জ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকার সরকারি কোয়ার্টারে। সেখানে ৬টি পরিবার দীর্ঘদিন বসবাস করলেও প্রয়োজনীয় মেরামতের অভাবে ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। নির্বাহী প্রকৌশলী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় কর্মচারীরা বাসা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে কোয়ার্টারটি জনশূন্য বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে এবং মূল্যবান সরকারি জায়গা বেদখল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
অভিযোগের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের দাবিঅভিযোগকারী ১৪ জন ঠিকাদার অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে তার অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। তার দাবি,"আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মনগড়া, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। আমি সব সময় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ঠিকাদারদের মধ্যকার দুই-একজন অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পূর্বেও তদন্ত করেছে এবং কোনো অনিয়ম পায়নি।"বর্তমানে গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা হওয়া এই স্মারকলিপিকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের সুশীল সমাজ ও ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সত্য উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয় : তদন্ত দাবি গণপূর্ত বিভাগ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগকে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভয়ারণ্যে পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। টানা তিন বছর ধরে তিনি কিশোরগঞ্জে দায়িত্বরত থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সরকারি নিয়মনীতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন বলে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২১শে সেপ্টেম্বর জেলার ১৪ জন ভুক্তভোগী ঠিকাদার যৌথভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি গুরুতর অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ সহ তুলে ধরা হয়েছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও রাজস্ব ক্ষতি
অভিযোগের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে পছন্দের সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দেওয়া। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল অন্তত ৮০ শতাংশ কাজ 'লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড' (LTM)-এ সম্পন্ন করতে হবে, যাতে সাধারণ ঠিকাদাররা অংশগ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর এই নিয়ম তোয়াক্কা না করে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছেন 'ওপেন টেন্ডারিং মেথড' (OTM)-এ। অন্তত ৩৫টি ওটিএম টেন্ডারের নোটিশ কোনো বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশই করা হয়নি।
এলটিএম প্রক্রিয়ায় যেখানে ৬০ থেকে ৭০ জন ঠিকাদার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, সেখানে তথ্য গোপন করে ডাকা ওটিএম টেন্ডারে অংশ নেয় মাত্র ৫ থেকে ৭ জন ঠিকাদার। মূলত নিজের পছন্দের ৫-৬ জন ঠিকাদারের মধ্যে কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করার জন্যই এই অপকৌশল অবলম্বন করা হয়, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এক দিনে টেন্ডার, চুক্তি ও বিলের 'অলৌকিক' দ্রুততা
অভিযোগে প্রকাশ পায় এক নজিরবিহীন দুর্নীতির খবর। গত ২১শে জুন কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদের ২৭টি কাজের ওটিএম টেন্ডার আহ্বান করেন নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর। পরদিনই (২২শে জুন) দ্রুততার সাথে চুক্তিপত্র সম্পন্ন করা হয় এবং তার পরের দিন (২৩শে জুন) সম্পূর্ণ বিলের চেক প্রদান করা হয়। মাত্র তিন দিনের মধ্যে ২৭টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে পুরো টাকা তুলে দেওয়া হয় তার ঘনিষ্ঠ ৫ জন ঠিকাদারের হাতে।বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও একইভাবে পিপিআর লঙ্ঘন করে কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করেন তিনি। পাশাপাশি ওই অর্থবছরে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (APP) ভুক্ত কাজের প্রকৃত বিল না মিটিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে টাকা তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।কোটি টাকার ফান্ড তছরুপ ও নাটোরে প্রাসাদপ্রকৌশলী জাহাঙ্গীর কিশোরগঞ্জে যোগদানের পর পরই নিজের সরকারি বাসভবন সংস্কারের নামে বিপুল অর্থ অপচয় করেন। এ ছাড়া ঠিকাদারদের ৫ শতাংশ সিকিউরিটি মানির হিসাব গরমিল করে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরে ঈদুল আজহার ঠিক আগে ঢাকার এক পরিচিত ঠিকাদারের নামে ৯টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়।
মিঠামইন শিল্পকলা একাডেমি, আইনজীবী ভবন, বিভিন্ন থানা ভবন এবং মডেল মসজিদসহ একাধিক বড় প্রকল্পের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, অগ্রিম বিল ছাড় করা এবং ভ্যালুয়েশন ফর্মে মিঠামইন শিল্পকলার বাউন্ডারি ওয়াল ও পাইলিংয়ের অতিরিক্ত অনুমোদন এনে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির এই অর্থে তিনি নিজ জেলা নাটোরে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং ঢাকার উত্তরায় ১০ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
অফিসে অনুপস্থিতি, বিনা ছুটিতে অবস্থান ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসরকারি ছুটির নিয়মকানুন ও কর্মঘণ্টা না মানার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সপ্তাহে মাত্র ২-৩ দিন অফিসে থাকেন তিনি। কোনো সেবাগ্রহীতা বা ঠিকাদার অফিসে দেখা করতে গেলে জানানো হয় ‘তিনি ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন’। ব্যক্তিগত কাজে ঢাকা ও নাটোরে যাতায়াতের জন্য প্রতিনিয়ত ব্যবহার করা হয় সরকারি গাড়ি।২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি বিদেশ ভ্রমণের জন্য আবেদন করলেও ছুটি মঞ্জুর হয়নি। অথচ ছুটি না পাওয়া সত্ত্বেও তিনি সরকারি কর্মস্থল ত্যাগ করে টানা ঢাকায় অবস্থান করেন এবং নিজের চিকিৎসাধীন ও নির্মাণাধীন ১০ তলা বাড়ির তদারকি করেন।
অন্যদিকে সরকারি সম্পদ রক্ষায় তার চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে কিশোরগঞ্জ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকার সরকারি কোয়ার্টারে। সেখানে ৬টি পরিবার দীর্ঘদিন বসবাস করলেও প্রয়োজনীয় মেরামতের অভাবে ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। নির্বাহী প্রকৌশলী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় কর্মচারীরা বাসা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে কোয়ার্টারটি জনশূন্য বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে এবং মূল্যবান সরকারি জায়গা বেদখল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
অভিযোগের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের দাবিঅভিযোগকারী ১৪ জন ঠিকাদার অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে তার অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। তার দাবি,"আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মনগড়া, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। আমি সব সময় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ঠিকাদারদের মধ্যকার দুই-একজন অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পূর্বেও তদন্ত করেছে এবং কোনো অনিয়ম পায়নি।"বর্তমানে গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা হওয়া এই স্মারকলিপিকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের সুশীল সমাজ ও ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সত্য উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন