ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও পরিবহনকেন্দ্র বিআরটিসি বাস ডিপো, ফলমন্ডি এবং রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকার অদূরেই দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার কারবার চলার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন চৌদ্দ জামতলা কাশেম শাহ মাজারসংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কথিত এই মাদক বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মুন্নি নামের এক নারী, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত বলে একাধিক সূত্রের দাবি। তাঁর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে মাদক বিক্রি, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সহযোগী নিয়োগ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রিতে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাটিতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা শোনা গেলেও এর স্থায়ী প্রতিকার নিয়ে তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও বাণিজ্যিক অঞ্চলের কাছাকাছি এমন অভিযোগ জনসাধারণের নিরাপত্তা, সামাজিক পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।মুঠোফোনে মুন্নির বক্তব্যে চাঞ্চল্যকর তথ্যইয়াবা বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মুন্নি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে শুধু তিনি নন, আরও অনেকে জড়িত রয়েছেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে নিজের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এই ব্যবসা বন্ধ করে দিলে আমার নামে ১৩টি মামলা, এগুলো চালাব কীভাবে ও খাব কী।’একই আলাপে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে চিকিৎসার খরচ জোগানোর বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন,জাকারিয়া হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবি সাতক্ষীরা আইনশৃঙ্খলা সভায়
একাধিক সূত্রের দাবি, মুন্নির কথিত মাদক বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কয়েকজন পারিশ্রমিকভিত্তিক সহযোগী রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক কেনাবেচার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সহযোগীদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, পরিচয়, দায়িত্ব কিংবা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও সামনে এসেছে। এলাকার এক অভিভাবক জানান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তাঁদের সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা। অল্প বয়সে অপরাধপ্রবণ পরিবেশের সংস্পর্শে এলে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক সামাজিক বিকাশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দিন-রাত প্রায় সব সময়ই অনেক অপরিচিত মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অচেনা মানুষের নিয়মিত যাতায়াত এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মাদকের বিস্তার নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, পরিবারের শান্তি এবং নারী ও শিশুদের নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত। সামাজিকভাবে মাদকাসক্তি ও অবৈধ মাদক বাণিজ্যের বিস্তার পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সংকট, শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্যুতি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চৌদ্দ জামতলার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকলে এসব নেতিবাচক প্রভাব তাঁদের এলাকাতেও প্রকট হয়ে উঠতে পারে। তবে মাদকের কারণে সেখানে চুরি, ছিনতাই বা সহিংসতার ঘটনা বাস্তবে বেড়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রয়োজন। চৌদ্দ জামতলার কথিত মাদক কারবার নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সামনে এসেছে সম্ভাব্য সরবরাহব্যবস্থা ও আর্থিক যোগাযোগের প্রশ্ন। অভিযোগ অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁদের মধ্যে কাজের সমন্বয়, পণ্য সরবরাহ ও অর্থ বণ্টনের কোনো ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোথা থেকে আসে ইয়াবা, স্থানীয় পর্যায়ে কারা তা পৌঁছে দেয়, কথিত সহযোগীদের পারিশ্রমিক কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থের চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কথিত মাদক কারবার পরিচালনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ যথেষ্ট নাও হতে পারে। মূল সরবরাহকারী, অর্থের উৎস এবং অপরাধসংক্রান্ত যোগাযোগ শনাক্ত করা গেলে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।
আরও পড়ুন,সদর মহাফেজখানায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ; নথি তল্লাশিতে ভোগান্তি
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ জাহেদুল কবির বলেন,মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অতি দ্রুত মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহজনক লেনদেনের আইনসম্মত অনুসন্ধান এবং অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক সমস্যাকে কেবল অভিযান ও গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, সমাজকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের শিক্ষামুখী রাখা, পরিবারকে সচেতন করা, সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পরিবহনকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত চৌদ্দ জামতলার মাদকসংক্রান্ত অভিযোগকে একটি নির্দিষ্ট বসতির বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জননিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ, শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রশ্ন।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও পরিবহনকেন্দ্র বিআরটিসি বাস ডিপো, ফলমন্ডি এবং রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকার অদূরেই দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার কারবার চলার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন চৌদ্দ জামতলা কাশেম শাহ মাজারসংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কথিত এই মাদক বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মুন্নি নামের এক নারী, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত বলে একাধিক সূত্রের দাবি। তাঁর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে মাদক বিক্রি, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সহযোগী নিয়োগ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রিতে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাটিতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা শোনা গেলেও এর স্থায়ী প্রতিকার নিয়ে তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও বাণিজ্যিক অঞ্চলের কাছাকাছি এমন অভিযোগ জনসাধারণের নিরাপত্তা, সামাজিক পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।মুঠোফোনে মুন্নির বক্তব্যে চাঞ্চল্যকর তথ্যইয়াবা বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মুন্নি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে শুধু তিনি নন, আরও অনেকে জড়িত রয়েছেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে নিজের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এই ব্যবসা বন্ধ করে দিলে আমার নামে ১৩টি মামলা, এগুলো চালাব কীভাবে ও খাব কী।’একই আলাপে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে চিকিৎসার খরচ জোগানোর বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন,জাকারিয়া হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবি সাতক্ষীরা আইনশৃঙ্খলা সভায়
একাধিক সূত্রের দাবি, মুন্নির কথিত মাদক বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কয়েকজন পারিশ্রমিকভিত্তিক সহযোগী রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক কেনাবেচার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সহযোগীদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, পরিচয়, দায়িত্ব কিংবা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও সামনে এসেছে। এলাকার এক অভিভাবক জানান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তাঁদের সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা। অল্প বয়সে অপরাধপ্রবণ পরিবেশের সংস্পর্শে এলে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক সামাজিক বিকাশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দিন-রাত প্রায় সব সময়ই অনেক অপরিচিত মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অচেনা মানুষের নিয়মিত যাতায়াত এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মাদকের বিস্তার নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, পরিবারের শান্তি এবং নারী ও শিশুদের নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত। সামাজিকভাবে মাদকাসক্তি ও অবৈধ মাদক বাণিজ্যের বিস্তার পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সংকট, শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্যুতি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চৌদ্দ জামতলার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকলে এসব নেতিবাচক প্রভাব তাঁদের এলাকাতেও প্রকট হয়ে উঠতে পারে। তবে মাদকের কারণে সেখানে চুরি, ছিনতাই বা সহিংসতার ঘটনা বাস্তবে বেড়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রয়োজন। চৌদ্দ জামতলার কথিত মাদক কারবার নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সামনে এসেছে সম্ভাব্য সরবরাহব্যবস্থা ও আর্থিক যোগাযোগের প্রশ্ন। অভিযোগ অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁদের মধ্যে কাজের সমন্বয়, পণ্য সরবরাহ ও অর্থ বণ্টনের কোনো ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোথা থেকে আসে ইয়াবা, স্থানীয় পর্যায়ে কারা তা পৌঁছে দেয়, কথিত সহযোগীদের পারিশ্রমিক কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থের চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কথিত মাদক কারবার পরিচালনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ যথেষ্ট নাও হতে পারে। মূল সরবরাহকারী, অর্থের উৎস এবং অপরাধসংক্রান্ত যোগাযোগ শনাক্ত করা গেলে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।
আরও পড়ুন,সদর মহাফেজখানায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ; নথি তল্লাশিতে ভোগান্তি
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ জাহেদুল কবির বলেন,মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অতি দ্রুত মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহজনক লেনদেনের আইনসম্মত অনুসন্ধান এবং অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক সমস্যাকে কেবল অভিযান ও গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, সমাজকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের শিক্ষামুখী রাখা, পরিবারকে সচেতন করা, সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পরিবহনকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত চৌদ্দ জামতলার মাদকসংক্রান্ত অভিযোগকে একটি নির্দিষ্ট বসতির বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জননিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ, শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রশ্ন।

আপনার মতামত লিখুন