Dhaka 12:19 pm, Saturday, 29 March 2025

কারা নির্বাচনে আসবে, ওই সিদ্ধান্ত নেবে ইসি : বদিউল আলম মজুমদার

কারা নির্বাচনে আসবে, ওই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘কারা নির্বাচনে আসবে, কারা যোগ্য, কারা যোগ্য নয়, ওই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে। আমাদের কাজ হলো নির্বাচনীব্যবস্থা সংস্কারের ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়া।’

রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলে।

সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। এ সময় কমিশনের অপর দুই সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও জেসমিন টুলীও উপস্থিত ছিলেন।

বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ, আবেগ ও উচ্ছ্বাস সেটা আমরা উপলব্ধি করছি। আমরা কোথাও গেলে মানুষ দু’টি কথা বলতে চায়, তাদের মনের আকুতি ব্যক্ত করতে চায়। অনেকে আমাদেরকে বিভিন্ন প্রস্তাবও দিতে চায়। সবার প্রস্তাবগুলো আমরা নিচ্ছি। ইমেইলেও হাজার হাজার মানুষ মতামত দিচ্ছে আমাদের। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে প্রস্তাবগুলো দেব। তবে বাস্তবায়ন আমাদের দায়িত্ব নয়। সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশন তা বাস্তবায়ন করবে। নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার সেখানে ভূমিকা থাকবে। আশা করছি ৩১ ডিসেম্বরের আগেই আমরা প্রতিবেদন জমা দেব।’

বদিউল আলম মজুমদার যোগ করেন, ‘আমরা কতগুলো প্রস্তাব দেব। কিন্তু বাস্তবায়ন আমাদের দায়িত্ব নয়। বাস্তবায়ন হবে সরকারের দ্বারা।’

এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে অনেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তারা আর ব্যবহৃত হতে চান না। তারা চান সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাই সেভাবে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি। আর হলফনামায় অনেক রকম ভুয়া, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেয়া হয়। তথ্য গোপন করা হয়। এগুলো যাতে যাচাই-বাছাই করা হয়, ওই সংক্রান্ত প্রস্তাব দেয়ার কথা বিবেচনা করছি। আমাদের প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুরোনো আইনে পরিচালিত হলেও সংস্কার কমিশনের সাথে তা সাংঘর্ষিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাজের সাথে তাদের কোনোরকম সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করছে না। যাদেরকে নিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে তারা অত্যন্ত সম্মানিত এবং দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তারা সঠিক ব্যক্তি এবং তারা আমাদের একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের ব্যাপারে সুপারিশ থাকবে। সংখ্যানুপাতিক আসনের পক্ষেও আছে, বিপক্ষেও প্রস্তাব আছে প্রবল। সব কটা বিবেচনায় নিচ্ছি। তবে এখানে আরেকটা জিনিস জানা দরকার, এসব সিদ্ধান্ত মূলত আমাদের নয়। এগুলোর জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। তো সংবিধান পরিবর্তনের জন্য যে কমিশন হয়েছে, তাদের এ বিষয়ে সুপারিশ করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান বলেন, ইভিএম এর আর প্রশ্নই আসে না। ওটা হবে না। নির্বাচন কমিশনও বলেছে, আমরাও একই মত দিয়েছি।

হলফনামায় তথ্য গোপন প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থীদের হলফনামায় অনেক রকম ভুয়া তথ্য থাকে, গোপনও করা হয়। আমরা এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়ারও পরিকল্পনা করছি। আমাদের প্রস্তাবনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ সময় ছিলেন সংস্কার কমিশনের সদস্য স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ডা. মো: আবদুল আলীম ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপডেট সংবাদ
বিনামূল্যে ব্রেকিং নিউজ পেতে ok ক্লিক করুন OK .

কারা নির্বাচনে আসবে, ওই সিদ্ধান্ত নেবে ইসি : বদিউল আলম মজুমদার

Update Time : 07:54:53 pm, Sunday, 22 December 2024

কারা নির্বাচনে আসবে, ওই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘কারা নির্বাচনে আসবে, কারা যোগ্য, কারা যোগ্য নয়, ওই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে। আমাদের কাজ হলো নির্বাচনীব্যবস্থা সংস্কারের ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়া।’

রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলে।

সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। এ সময় কমিশনের অপর দুই সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও জেসমিন টুলীও উপস্থিত ছিলেন।

বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ, আবেগ ও উচ্ছ্বাস সেটা আমরা উপলব্ধি করছি। আমরা কোথাও গেলে মানুষ দু’টি কথা বলতে চায়, তাদের মনের আকুতি ব্যক্ত করতে চায়। অনেকে আমাদেরকে বিভিন্ন প্রস্তাবও দিতে চায়। সবার প্রস্তাবগুলো আমরা নিচ্ছি। ইমেইলেও হাজার হাজার মানুষ মতামত দিচ্ছে আমাদের। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে প্রস্তাবগুলো দেব। তবে বাস্তবায়ন আমাদের দায়িত্ব নয়। সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশন তা বাস্তবায়ন করবে। নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার সেখানে ভূমিকা থাকবে। আশা করছি ৩১ ডিসেম্বরের আগেই আমরা প্রতিবেদন জমা দেব।’

বদিউল আলম মজুমদার যোগ করেন, ‘আমরা কতগুলো প্রস্তাব দেব। কিন্তু বাস্তবায়ন আমাদের দায়িত্ব নয়। বাস্তবায়ন হবে সরকারের দ্বারা।’

এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে অনেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তারা আর ব্যবহৃত হতে চান না। তারা চান সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাই সেভাবে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি। আর হলফনামায় অনেক রকম ভুয়া, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেয়া হয়। তথ্য গোপন করা হয়। এগুলো যাতে যাচাই-বাছাই করা হয়, ওই সংক্রান্ত প্রস্তাব দেয়ার কথা বিবেচনা করছি। আমাদের প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুরোনো আইনে পরিচালিত হলেও সংস্কার কমিশনের সাথে তা সাংঘর্ষিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাজের সাথে তাদের কোনোরকম সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করছে না। যাদেরকে নিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে তারা অত্যন্ত সম্মানিত এবং দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তারা সঠিক ব্যক্তি এবং তারা আমাদের একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের ব্যাপারে সুপারিশ থাকবে। সংখ্যানুপাতিক আসনের পক্ষেও আছে, বিপক্ষেও প্রস্তাব আছে প্রবল। সব কটা বিবেচনায় নিচ্ছি। তবে এখানে আরেকটা জিনিস জানা দরকার, এসব সিদ্ধান্ত মূলত আমাদের নয়। এগুলোর জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। তো সংবিধান পরিবর্তনের জন্য যে কমিশন হয়েছে, তাদের এ বিষয়ে সুপারিশ করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান বলেন, ইভিএম এর আর প্রশ্নই আসে না। ওটা হবে না। নির্বাচন কমিশনও বলেছে, আমরাও একই মত দিয়েছি।

হলফনামায় তথ্য গোপন প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থীদের হলফনামায় অনেক রকম ভুয়া তথ্য থাকে, গোপনও করা হয়। আমরা এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়ারও পরিকল্পনা করছি। আমাদের প্রস্তাবনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ সময় ছিলেন সংস্কার কমিশনের সদস্য স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ডা. মো: আবদুল আলীম ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম প্রমুখ।