
দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার অন্যতম বন্দর নগর চট্টগ্রাম। মিয়ানমারের মতো বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এই অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ চট্টগ্রাম নগরে থাকা ৩ লাখ ৮২ হাজার ভবনের মধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ভবন কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চট্টগ্রামে ভূমিকম্পে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন-বিধি না মানা, নকশা না মেনে ভবন করা এবং গুণগত মানসম্পন্ন নির্মাণ উপকরণসামগ্রী ব্যবহার না করার কারণে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্প হলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যত কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেই বলেও দাবি তাঁদের।
বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দাবি, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে তদারকি সংস্থা হিসেবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) যে ভূমিকা থাকা উচিত ছিল, তাতে যথেষ্ট গাফিলতি ও ঘাটতি ছিল। সঠিক দায়িত্ব পালন করেনি সংস্থাটি। এই কারণে পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। লোকবল–সংকটের কারণে ভবন নির্মাণের তদারকিতে ঘাটতি থাকার কথা স্বীকার করেছেন সিডিএর কর্মকর্তারা। তাঁরাও শঙ্কা করছেন, ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে চট্টগ্রামের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভবন হয় ধসে পড়বে, না হয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভূমিকম্পে চট্টগ্রামের ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে গত শুক্রবার মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার পর।
ঝুঁকিতে আড়াই লাখের বেশি ভবন
সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একতলা ভবন রয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫টি। ২ থেকে ৫ তলাবিশিষ্ট ভবন রয়েছে ৯০ হাজার ৪৪৪টি। ৬ থেকে ১০তলা পর্যন্ত ভবনের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৩৫। ১০তলার ওপরে ভবন রয়েছে ৫২৭টি। নগরে এখন ২০তলার বেশি ভবন রয়েছে ১০টি। এই বিপুলসংখ্যক ভবন নির্মাণ করা হলেও এগুলোর অধিকাংশই ইমারত বিধিমালা মানেনি।