প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
মিরপুর মাজার রোডে হোটেল নিউ জোনাকী বাচ্চুর নারীব্যবসা ও মাদক সিন্ডিকেট
ডেস্ক ||
ডিএমপির দারুস সালাম থানাধীন মাজার রোড এলাকায় অবস্থিত হোটেল নিউ জোনাকী আবারও শুরু করেছে নারী ও মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, হোটেলটি মালিক বাচ্চুর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে, যিনি এর আগে একই ধরনের অপরাধে ধানসিঁড়ি নামক একটি আবাসিক হোটেল পরিচালনা করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানসিঁড়ি হোটেলে নারী ব্যবসা ও মাদক লেনদেনের কারণে দারুস সালাম থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার পর কিছুদিন বাচ্চু শহর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি হোটেল রংধনুতে আগের ধাঁচের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছেন। তাও আবার শাহাআলী থানাধীন।
হোটেলটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের সনদ, পর্যটন অধিদপ্তরের অনুমোদন বা সিসিটিভি নেই। ফলে এটি সহজ লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরাধী সিন্ডিকেটের জন্য। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, হোটেলটি রাতের অন্ধকারে নারী ব্যবসা ও মাদক চক্রের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
একজন দোকানদার বলেন, হোটেলটির প্রবেশদ্বারে কোনমতে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিন ও রাতের বেলায় অচেনা লোকজনের ঢল নেমে আসে। হোটেলটির সাবেক কর্মচারী এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোটেলটিতে প্রতিদিনই বেশ কয়েকজন নারী আসে। তাদের অধিকাংশই স্থানীয় নয়। একজন সাবেক কর্মচারী বলেন, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ১০-২০ জন নারী আসে। মালিক সব জানে, কিন্তু শুধু অর্থের দিকে মনোযোগ দেয়। যারা নারীদের সরবরাহ করে, তাদের সঙ্গে মালিকদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। অনেক সময় হোটেলের ভেতরে দলবেঁধে মাদক সেবন করা হয়। এই কার্যক্রমের কারণে আশপাশের কিশোর ও যুবকরা প্রভাবিত হচ্ছেন। শুধু তাই না হোটেলের আশেপাশে নানা ধরনের মাদক ও কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এভাবে চলতে দিলে একদিন ভয়ংকর দুর্ঘটনা হবে। তখন কেউ দায় নেবে না।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ আসে, দেখে চলে যায়। কিন্তু হোটেল আগের মতোই চালু থাকে। বাচ্চু প্রভাবশালী, তাই কেউ কিছু করতে পারে না। দারুস সালাম থানার এক কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে তথ্যের অভাবে কিছু চক্র পুনরায় শুরু করতে সক্ষম হচ্ছে। বাচ্চু একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার কৌশল: সাইনবোর্ডহীন হোটেল চালানো, রাতে মাদক ও নারী ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রশাসনের কিছু স্তরের সঙ্গে সংযোগ রাখা। স্থানীয়রা বলছেন, এই সিন্ডিকেটের কারণে সরাসরি অভিযান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন, সিএমপির ১৬ থানায় ওসিদের রদবদল
স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, হোটেলটির মালিক বাচ্চুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এখানে নারীব্যবসা ও মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রম চলছে। হোটেলের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি মালিক বাচ্চুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। মালিক জানিয়েছেন, হোটেলটি তিনি নতুনভাবে নিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা তেমন ভালো না। তাই ২-৪ জন মহিলাকে রেখে আমি ব্যবসা চালাচ্ছি। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন, কিছু বহিরাগত যুবক ও যুবতী স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ঘন্টা ভিত্তিক রুম বরাদ্দ নিয়ে থাকছে। কারণ নতুন হোটেল ফ্রেস চালালে তেমন লাভবান হওয়া সম্ভব হয় না। বাচ্চু আরো স্বীকার করেছেন, এই ব্যবসা চালাতে অবশ্যই থানার অনুমতি প্রয়োজন হয়। দারুস সালাম থানার কর্মকর্তারা আমার হোটেল সম্পর্কে সচেতন এবং আমি নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট ব্যালেন্স প্রদান করা হয়, এ ব্যাপারটি সবাই জানে।
আরও পড়ুন, নির্বাচনে জনগণই তাদের ভোট পাহারা দেবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
স্থানীয়রা বলছেন, হোটেলটি নিরাপত্তা ও নিয়মকানুনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। ফায়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, জরুরি সিঁড়ি নেই, সিসিটিভি মনিটরিং কার্যকর নয়, নিরাপত্তা কর্মী ও অতিথি রেজিস্টার অনুপস্থিত। ফলে অগ্নিকাণ্ড, নারী নিপীড়ন, আত্মহত্যা বা গ্যাং সংঘর্ষের সম্ভাবনা সর্বদা বিদ্যমান। হোটেলের মালিকের স্বীকারোক্তি এবং স্থানীয়দের অভিযোগ এক সঙ্গে বিচার করলে স্পষ্ট হয় শুধু প্রশাসন ও পুলিশের পর্যবেক্ষণ নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে হোটেলটি তৎক্ষণাৎ বন্ধ করবে এবং মালিকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই ঘটনা গাবতলীর আশেপাশের যুবক, পরিবার এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সন্ধ্যার পর বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে, আর শিক্ষার্থীরা হোটেলের কার্যক্রম থেকে প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসাধারণের আস্থা ফিরে আনার জন্য প্রশাসনকে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত