প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের হাতছানি ১২০ কোটি টাকার অনুদানের পরিকল্পনা জাইকার
এম মিজানুর রহমান ||
চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট নিরসনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) প্রায় ১২০ কোটি টাকার অনুদান সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। প্রস্তাবিত এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম নগর ভবনে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে জাইকার একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত অনুদানের অর্থায়নে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ৫০টির বেশি আধুনিক বর্জ্য পরিবহনকারী যানবাহন এবং ল্যান্ডফিল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে বর্জ্য নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থাপনেও সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে ১২০ কোটি টাকার অনুদান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুমোদন দিয়েছে জাপান সরকার। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ডিসেম্বরে জাইকার সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম সফরে আসার কথা রয়েছে। তাদের সমীক্ষা ও মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে নগরীর ভবিষ্যৎ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকায় নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে মোট ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশে ১৮ একর এবং সংলগ্ন অপর অংশে ১০ একর জমি রয়েছে। এ জমিতেই পরিকল্পিত বর্জ্য নিষ্পত্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।আরও পড়ুন, সখীপুরে শিশুসন্তানসহ ৪ দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ!জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিদেকি ওসাওয়া বৈঠকে জানান, নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দ্রুত প্রস্তুত করার লক্ষ্যে কারিগরি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাইকার বিশেষজ্ঞরা চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের নকশা এবং প্রয়োজনীয় কাজের পরিমাণ ও ব্যয়ের প্রাক্কলন (বিওকিউ) তৈরিতে সহযোগিতা করছেন। এ সময় চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমে জাইকার সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রস্তাবিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সফল করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের উদ্যোগের সঙ্গে নগরীর বিদ্যমান বর্জ্য নিষ্পত্তি কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নেও জাইকার সহায়তা প্রত্যাশা করেন চসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি করতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, জাইকা বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসেন, জাইকার বিশেষজ্ঞ দলের তাকাতোশি আরাই, হিরোফুমি মিয়োশি, সাতোশি হিগাশিনাকাগাওয়া এবং প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে আসন্ন সম্ভাব্যতা সমীক্ষা। সমীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল এবং পরবর্তী অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রস্তাবিত জাপানি অনুদানের মাধ্যমে বর্জ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক নিষ্পত্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত