প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠানের আবেদন জটিলতায় বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ হারাচ্ছে হাজারো শিশু
পীর মোহাম্মাদ ||
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রায় চার হাজার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করতে না পারায় তিন শতাধিক কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, পরিচালক ও অভিভাবকরা।চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। ফলে সময়মতো আবেদন করতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সুযোগ হারানোর মুখে পড়েছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন ও উচ্চবিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক শাখাসহ মোট ৪৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করেছে মাত্র ১১০টির মতো প্রতিষ্ঠান। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো আবেদন করতে না পারায় তাদের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের দাবি, সরকারি শর্ত পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান সময়ের সংকটে পড়েছে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক ও কারিগরি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু এসব প্রশাসনিক জটিলতার দায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বহন করতে হওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।মিজমিজি এলাকার হাজী সামছুদ্দিন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, পাঠদানের অনুমতির আবেদন করতে গিয়ে ফি জমা ও অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে জটিলতায় পড়তে হয়েছে। প্রথমে সোনালী ব্যাংকে তিন হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন করতে গেলে অনলাইনে পুনরায় ফি পরিশোধের বিষয়টি সামনে আসে। পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে আরও তিন হাজার টাকা পরিশোধের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করেন। তবে তার বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।বাতানপাড়া এলাকার জিয়াউল হক কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক জিয়াউল হক বলেন, সরকারি শর্ত পূরণ করে পাঠদানের অনুমতির আবেদন করেছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদন করায় তার প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। মেধা যাচাইয়ের স্বার্থে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন, এইচএসসি পরীক্ষায় মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রী কলেজ এগিয়েনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কিন্ডারগার্টেন পরিচালক বলেন, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বা পাঠদানের অনুমতি সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে। কিন্তু এর প্রভাব শিশুদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগের ওপর পড়া উচিত নয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনার আলোকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুযোগের অসমতা তৈরি হোক, তা তারা চান না।তাদের মতে, অনেক অভিভাবক সন্তানদের উন্নত পাঠদান ও পরিবেশের প্রত্যাশায় কিন্ডারগার্টেনে পড়াচ্ছেন। তাই প্রতিষ্ঠানের ধরন কিংবা আবেদন প্রক্রিয়ার সময়সীমার কারণে শিশুদের বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ সীমিত করা উচিত নয়।একাধিক অভিভাবক বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের আবেদন করতে বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু সেই কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কেন মেধা যাচাইয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে? এতে শিশুদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা সরকারি নীতিমালা সহজ ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি বিশেষ বিবেচনায় এবারের পরীক্ষায় সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফ উদ্দিন বিপ্লব বলেন, সদর উপজেলায় ৪৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ১১০টি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠদানের অনুমতির আবেদন করেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো আবেদন করতে না পারায় তাদের শিক্ষার্থীরা এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল, আদর্শ হাই স্কুল এবং সিদ্ধিরগঞ্জের পিডিবি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এ সমস্যার মধ্যে রয়েছে।তিনি আরও বলেন, অনলাইনে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক আবেদন পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পাঠানো সম্ভব হয়নি। মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষে কিছু করার সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।এ অবস্থায় প্রশাসনিক জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে শিশুদের শিক্ষার অধিকার ও সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক-অভিভাবকরা। তাদের প্রত্যাশা, বিশেষ বিবেচনায় এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে মেধা যাচাইয়ের সমান ক্ষেত্র তৈরি করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত