প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
তালায় কলেজছাত্রীর ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ, কারাগারে তিনজন
শেখ আমিনুর হোসেন ||
সাতক্ষীরার তালায় এক কলেজছাত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তা ছড়ানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় একই পরিবারের তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সিআইডির অধিকতর তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর সোমবার (৩ নভেম্বর) অভিযুক্তদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন তালা উপজেলার সেনেরগাঁতী গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে জাকির হোসেন, তাঁর বড় ভাই মো. ফারুক হোসেন এবং ফারুকের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম আখি। মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটা থানাধীন এলাকার এক কলেজছাত্রীর (ছদ্মনাম নীলা) সঙ্গে জাকির হোসেনের প্রায় চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময় জাকিরের বড় ভাই ফারুক হোসেন বিভিন্ন সময়ে নীলাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বিষয়টি জাকিরকে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো প্রতিবাদ করেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে জাকির সম্পর্কের ইতি টানেন। এরপর ফারুক হোসেন নীলাকে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও পাঠাতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে জাকিরের কাছে সংরক্ষিত নীলার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তিনজনের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ফারুকের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম আখি একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।আরও পড়ুন,গাজীপুরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনএ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী নীলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম অ্যালার্ট টিমের সহযোগিতা নেন। সংগঠনটি তাঁকে মানসিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আইনি প্রতিকার পেতে সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করতে সহযোগিতা করে। পরে জেলা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ৪ মে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী-৬ নম্বর আদালতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দেওয়া হয়। তবে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতে নারাজি আবেদন করেন ভুক্তভোগী। পরে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠান। সিআইডির অধিকতর তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। সর্বশেষ সোমবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) অভিযুক্ত তিনজন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ, প্রকাশের হুমকি কিংবা এসব উপকরণ ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করা ব্যক্তির গোপনীয়তা ও মর্যাদার গুরুতর লঙ্ঘন। এ ধরনের অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সামাজিক লজ্জা, ভয় কিংবা হুমকির কারণে নীরব না থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনগত সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিওর অপব্যবহার রোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা সচেতনতা এবং দ্রুত আইনি প্রতিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত