প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মাদক সিন্ডিকেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ শিবির সভাপতির
জুবাইর আহমেদ খান রোহান ||
দেশে মাদক ব্যবসার বিস্তার ও সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলামাদক সিন্ডিকেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ শিবির সভাপতিরম সাদ্দাম। তাঁর দাবি, মাদক ব্যবসার শীর্ষ ডিলার পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়িত। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে লালমনিরহাট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও নবীনবরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বর্তমানে মাদক ব্যবসার টপ ডিলার পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়িত। অসংখ্য ছাত্রদল নেতাকর্মী মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অনেকেই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। কড়া প্রহরার মধ্যেও সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ করছে। এর সঙ্গে বিজিবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশ জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাদক নির্মূলে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুকৌশলে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তরুণ প্রজন্মকে মাদকে বুঁদ করে দলীয় সংকীর্ণ এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।আরও পড়ুন,বরগুনার তালতলীতে তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে মাঠে ইউএনও অতীশ সরকার এভাবে কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তরুণ প্রজন্ম মাদকে আসক্ত হলে আগামীর বাংলাদেশ হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে সরকারের প্রধান ব্যক্তির আরও দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাদক সিন্ডিকেটের ভয়াবহতা তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, মাদক শুধু উত্তরবঙ্গ কিংবা লালমনিরহাটের পাটগ্রামের সমস্যা নয়। মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও আইসের মতো মরণঘাতী মাদক দেশে প্রবেশ করছে। অথচ মূল ডিলারদের ধরা হচ্ছে না, কেবল খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাদক সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে ঢাকায় ইশরাক নামের একজন প্রতিমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে আগ্রাসী অভিযান পরিচালনার পরদিনই পদ হারিয়েছেন। একজন মন্ত্রীকেও মাদক সিন্ডিকেট সরিয়ে দিতে পারে, এটি তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানের স্থান নির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, অনুষ্ঠানটি লালমনিরহাট সরকারি কলেজের হলরুমে হওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি। বিএনপি সব জায়গায় নগ্ন ও নোংরা রাজনীতি করছে। ক্ষমতায় থেকেও তাদের উদার মানসিকতার অভাব রয়েছে। তারা দেশকে আবারও স্বৈরাচারী কাঠামোয় পরিচালনার চেষ্টা করছে। তবে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে, ছাত্রশিবিরের আয়োজন তারা কতটা উপভোগ করে। সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটিকে দায়ী করেন তিনি।আরও পড়ুন,পিবিআই গাজীপুরে দুই পুলিশ সদস্যকে বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনাতাঁর মতে, আওয়ামী লীগের আমলে প্রকৃত শিক্ষার চেয়ে এ-প্লাসের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। ফলে ভালো ফলাফলধারী তৈরি হলেও প্রকৃত শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে ওঠেনি। এবার ইউনিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় বড় অংশের শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এ দায় সরকার এড়াতে পারে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কলেজগুলোতে ভালো ল্যাব, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দেরও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ৩০ দফা দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ থেকে ৬ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে। বর্তমানে যে সামান্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বড় অংশ অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষকদের বেতনেই শেষ হয়ে যায়। প্রকৃত শিক্ষার উন্নয়নে তা যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছে না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফিরোজ হায়দার লাভলু, জেলার সাবেক আমির আতাউর রহমান, লালমনিরহাট জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম সালেহী, লালমনিরহাট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত