প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
২১ মাসে বান্দরবানে চার জেলা প্রশাসক, বারবার বদলিতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন
মো. ইনতাজ হোসেন ||
বান্দরবানে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ পদে একের পর এক পরিবর্তন ঘটছে। মাত্র ২১ মাসের ব্যবধানে চারজন জেলা প্রশাসককে ঘিরে দায়িত্বের পালাবদল স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেউ দায়িত্ব পালন করেছেন এক বছরের বেশি সময়, আবার কেউ ছয় মাসের মাথায় বিদায় নিয়েছেন। সর্বশেষ জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের বদলির পর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নাজনীন সুলতানা। ঘন ঘন এই রদবদলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি ও জনসেবায় কতটা প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে আলোচিত চার জেলা প্রশাসক হলেন শাহ মোজাহিদ উদ্দিন, শামীম আরা রিনি, মো. সানিউল ফেরদৌস ও নাজনীন সুলতানা। তাঁদের দায়িত্বকাল ও বদলির সময় পর্যালোচনা করলে প্রশাসনের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক চিত্র উঠে আসে।শাহ মোজাহিদ উদ্দিনের দায়িত্বকালবান্দরবানের জেলা প্রশাসক হিসেবে শাহ মোজাহিদ উদ্দিন দায়িত্ব পালন করেন ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। তাঁর দায়িত্বকালেই অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে বদলি করা হয়।শামীম আরা রিনির প্রায় ১৪ মাস২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি বান্দরবানের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন শামীম আরা রিনি। প্রায় ১৪ মাস দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল তাঁকে সরিয়ে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মো. সানিউল ফেরদৌসকে। তাঁর দায়িত্বকালেও দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে।আরও পড়ুন,নাইক্ষ্যংছড়িতে কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিতছয় মাসেই বিদায় সানিউল ফেরদৌসের২০২৬ সালের ২ এপ্রিল বান্দরবানের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সানিউল ফেরদৌস। এর আগে তিনি ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাস ছয় দিনের মাথায়, ৮ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বদলি করা হয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নিয়োগ পান নাজনীন সুলতানা।নতুন জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানাগত ৮ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক নাজনীন সুলতানাকে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়। তাঁর নিয়োগের মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে আবারও পরিবর্তন আসে।বদলির কারণ নিয়ে স্পষ্টতা কতটুকু?প্রশাসনিক রদবদল সরকারি চাকরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। জনস্বার্থ, প্রশাসনিক প্রয়োজন, পদায়ন কিংবা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে একজন জেলা প্রশাসককে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে। তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ধারাবাহিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব সিদ্ধান্তের পেছনের প্রশাসনিক বিবেচনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে বান্দরবানের মতো পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী জেলায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূমি ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি এবং স্থানীয় জনগণের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একজন জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পরিবর্তন হলে চলমান উদ্যোগ ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা কতটা বজায় থাকে, সেটিও বিবেচনার বিষয়। সব মিলিয়ে বান্দরবানে জেলা প্রশাসকের ঘন ঘন বদলি কেবল কর্মকর্তাদের পদায়ন পরিবর্তনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের প্রশ্ন। কেন এত দ্রুত পরিবর্তন, এর পেছনে কী প্রশাসনিক বিবেচনা এবং জেলার উন্নয়ন ও জনসেবায় এর প্রভাব কতটুকু—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত