প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে উত্তাল দেশের শিল্পাঞ্চল: শ্রমিক অসন্তোষে অচল বিভিন্ন মহাসড়ক
মোঃ শফিকুল ইসলাম ||
নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর এই দিনে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে অবশেষে রাজপথে নেমেছেন দেশের পোশাক শ্রমিকেরা। নায্য মজুরি বৃদ্ধি এবং জীবনযাপনের উপযোগী বেতন কাঠামোর দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দেখা গেছে। শ্রমিকদের এই আকস্মিক ও তীব্র আন্দোলনের ফলে অনেক এলাকায় প্রধান প্রধান সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ হয়ে পড়ে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা। গত কয়েক বছর ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী, তাতে বর্তমান মজুরিতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি আন্দোলনরত শ্রমিকদের। বাসাভাড়া, চাল-ডাল, তেল-সবজিসহ প্রতিটি জিনিসের দাম লাগামহীন। কিন্তু সেই তুলনায় তাদের মূল বেতন বা মজুরি বাড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মহলে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোনো সুফল না মেলায় শ্রমিকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা। সকাল থেকেই বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের (সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, টঙ্গী ও নারায়নগঞ্জ) শত শত শ্রমিক কারখানার ভেতরে কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। সাভার ও আশুলিয়া: এই এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এবং ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শ্রমিকেরা। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গাজীপুর ও টঙ্গী: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন শ্রমিকেরা। ট্রাফিক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে। নারায়ণগঞ্জ: বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে এসে নায্য মজুরি কমিশন গঠন এবং অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।আরো পড়ুন,দেলদুয়ারে নিয়ম না মেনেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো গাছ কাটার অভিযোগপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ এবং র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা চালান। কিছু কিছু জায়গায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিএমইএ (BGMEA), বিকেএমইএ (BKMEA) এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার খবর পাওয়া গেছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কারখানার উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। তবে শ্রমিকদের নায্য দাবি পূরণে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি যৌক্তিক সমাধানের পথ খুঁজছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে পোশাক খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি, আর এই খাতের প্রাণ হলো শ্রমিকেরা। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনা ও সমঝোতা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এই অসন্তোষ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত