প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
ফ্রান্সের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে
সংবাদ দিগন্ত ||
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পুলিশের সহিংসতা ও সামাজিক বৈষম্যের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) টানা তৃতীয় সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে প্যারিসে ছিলেন প্রায় ৭০ হাজার। তবে যুব সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ, যার মধ্যে দুই লাখই প্যারিসে অংশ নেন। প্যারিসের মিছিলের শেষ দিকে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি রাস্তার পাথর তুলে পুলিশের দিকে ছুড়তে থাকেন। অন্তত একটি পেট্রলবোমাও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ প্রিফেকচারের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলের পেছনের অংশে কয়েক শ উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালান। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। আরও পড়ুন,ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত প্যারিসদেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিওঁতে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া বিভিন্ন বস্তুর জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। তুলুজে অনুমতি ছাড়া আয়োজিত বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয়। মার্সেইয়েও কর্মসূচির শেষ দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হ্যালোইন উৎসবের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিক্ষোভে অনেককে স্পাইডার-ম্যান ও ফ্রাঙ্কেনস্টাইনসহ বিভিন্ন চরিত্রের পোশাকে দেখা যায়। প্যারিসের মিছিলে যোগ দেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। তিনি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকারের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার অভিযোগ করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের অভিযোগ থেকে আন্দোলনের সূচনা। পরে শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা এতে যুক্ত হন। জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির উচ্চমূল্য, সামাজিক বৈষম্য এবং নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার দাবিও আন্দোলনে গুরুত্ব পায়।গত ১৭ অক্টোবর দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের সময় লুটপাট ও সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনকারীরা আগামী মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ কর্মসূচি এবং ৫ নভেম্বর শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে ছয় মাসেরও কম সময় পর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই সময়ে চলমান বিক্ষোভ মাখোঁ সরকারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার জার্মানির বিভিন্ন শহরেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু সুরক্ষা ও সাশ্রয়ী জীবনযাপনের দাবিতে হাজারো তরুণ রাস্তায় নামেন। ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ফ্রান্স বর্তমানে মন্দার ঝুঁকি ও সরকারি ঋণের চাপের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের দাবি পূরণে অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত