প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
সালমান-ঐশ্বরিয়ার প্রেমে কেন এসেছিল ভাঙন
সংবাদ দিগন্ত ||
একসময় বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রেমিক যুগল ছিলেন সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাই। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ছবির সেটে শুরু হওয়া তাঁদের প্রেম নিয়ে ছিল বিয়ের জল্পনাও। কিন্তু সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত গড়ায় তিক্ত বিচ্ছেদে। সন্দেহ, পারিবারিক আপত্তি, ঝগড়া এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত হয়ে ওঠে তাঁদের প্রেমের গল্প। আজ ১ নভেম্বর ঐশ্বরিয়ার জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক বলিউডের এই বহুল চর্চিত সম্পর্কের নানা ঘটনা। ১৯৯৯ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ছবির শুটিংয়ের সময় সালমান ও ঐশ্বরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। পর্দার প্রেম বাস্তব জীবনেও রূপ নেয় সম্পর্কের। তখন সালমান ছিলেন বলিউডের প্রতিষ্ঠিত তারকা। অন্যদিকে মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার পর সিনেমায় নিজের অবস্থান তৈরি করছিলেন ঐশ্বরিয়া। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পর্কটি বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে সালমানের অতীত সম্পর্ক এবং তাঁর আচরণ নিয়ে ঐশ্বরিয়ার পরিবারের আপত্তি ছিল বলে দাবি করেন সাংবাদিক হানিফ জাভেরি। সময় গড়ানোর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কে বাড়তে থাকে সন্দেহ ও অশান্তি। ২০০২ সালে ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া অভিযোগ করেন, বিচ্ছেদের পরও সালমান তাঁকে ফোন করে বিরক্ত করতেন এবং সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন। একই সাক্ষাৎকারে সম্পর্কের সময় শারীরিক দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন ঐশ্বরিয়া। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত জীবনের অশান্তির মধ্যেও তাঁকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। ২০০১ সালের নভেম্বরে ঐশ্বরিয়ার মুম্বাইয়ের বাসার সামনে সালমানের উত্তেজিত আচরণের খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আরও পড়ুন,টিকিট কেটেও ভোগান্তি কনসার্ট দর্শকদেরপরে সালমান ঘটনাটি ঘটেছিল বলে স্বীকার করলেও সংবাদমাধ্যমে তা অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন সালমান। ২০০২ সালে ‘মিড-ডে’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঐশ্বরিয়াকে কখনো মারধর করেননি। সম্পর্কের প্রভাব পড়ে ঐশ্বরিয়ার পেশাগত জীবনেও। শাহরুখ খানের ‘চলতে চলতে’ ছবিতে প্রথমে তাঁর অভিনয়ের কথা থাকলেও পরে তাঁকে বাদ দিয়ে নেওয়া হয় রানি মুখার্জিকে। এ নিয়ে সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের প্রভাব পড়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ২০০৩ সালের ৬ এপ্রিল এক বিবৃতিতে সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক শেষ করার ঘোষণা দেন ঐশ্বরিয়া। নিজের মানসিক শান্তি, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মানের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে বিয়ে হয় ঐশ্বরিয়ার। তাঁদের কন্যা আরাধ্যার জন্ম ২০১১ সালে। অন্যদিকে সালমান খান এখনো অবিবাহিত। ২০১২ সালে সিমি গারেওয়ালের অনুষ্ঠানে সালমানের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে চাননি ঐশ্বরিয়া। জানিয়েছিলেন, সেই অধ্যায়কে অতীতেই রেখে দিতে চান তিনি। একসময় বিয়ের স্বপ্ন দেখা দুই তারকার সেই সম্পর্ক আজও বলিউডের আলোচিত অতীত। তবে ঐশ্বরিয়ার কাছে সেই অধ্যায় শেষ নিজের জীবন ও পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে গুরুত্ব দিয়েই অতীত নিয়ে আর প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত