প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শেখ হাসিনাসহ ৮৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলায় নতুন মোড়
সংবাদ দিগন্ত ||
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শরীরে নয়টি গুলি লাগার দাবি করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন নূর হোসেন। তবে পুলিশের তদন্তে তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি মামলার এজাহারের সঙ্গে জমা দেওয়া চিকিৎসাপত্রও জাল বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৮৪ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক উক্যমং রাখাইন। সম্প্রতি আদালত নথি পর্যালোচনা করে মামলার বাদীর প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন। আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। মামলার এজাহারে নূর হোসেন দাবি করেছিলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ময়ূর ভিলা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি হামলার শিকার হন। এ সময় তাঁর পিঠে ছয়টি, বাঁ পায়ে দুটি এবং ডান পায়ে একটি গুলি লাগে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও ভয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে এজাহারে উল্লেখ করেন নূর হোসেন। এসব অভিযোগে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি। তবে তদন্তে দেখা যায়, মামলার সঙ্গে জমা দেওয়া চিকিৎসাপত্রটি জাল।আরও পড়ুন,এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরাহাসপাতালের মূল রেজিস্টার ও নথিপত্র যাচাই করে ওই তারিখে নূর হোসেনের চিকিৎসা নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া চিকিৎসাপত্রটি কম্পিউটারে টাইপ করা হলেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা হাতে লিখে ব্যবস্থাপত্র দেন। চিকিৎসাপত্রে থাকা ক্যাশ মেমো নম্বরটি আব্দুস সাত্তার নামের অন্য এক রোগীর এবং পেশেন্ট আইডি নম্বরটি জুয়েল নামের আরেক ব্যক্তির বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের সরকারি গেজেটেও নূর হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি। এসব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের কোনো প্রাথমিক সত্যতা পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। মামলায় অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা। এদিকে মিথ্যা তথ্য ও জাল চিকিৎসাপত্র দিয়ে মামলা করার অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত