প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ফুটপাতের চাঁদাবাজির অর্থনীতি বন্ধের দাবি
সংবাদ দিগন্ত ||
ঢাকার ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হকারদের জীবিকা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনা মডেল চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর মতে, শুধু হকার উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অর্থনীতি বন্ধ করার পাশাপাশি হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও ব্যবসার জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকার ফুটপাত ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল চাঁদাবাজির অর্থনীতি। ২০১৬ সালে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণায় ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বার্ষিক পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে হকার্স ফেডারেশনের হিসাবে এই অঙ্ক প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। তাঁর দাবি, ফুটপাতের মালিক রাষ্ট্র হলেও সেখানে ব্যবসা করেন হকাররা। কিন্তু ভাড়া আদায় করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও চাঁদাবাজ চক্র।আরও পড়ুন,দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজি বন্ধের দাবি জামায়াত নেতার ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তন হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। নিজের পোস্টে ঢাকা মহানগর পুলিশের চাঁদাবাজ ও দখলদারদের তালিকা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত ২৭৮ জনের মধ্যে ২৩০ জন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বর্তমান বা সাবেক নেতাকর্মী। তবে তালিকার তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রকে নিয়ন্ত্রণ না করে শুধু হকার উচ্ছেদ করা হলে কিছুদিন পর আবার ফুটপাত দখল হবে। তখন আগের চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের মাধ্যমে একই কার্যক্রম চলতে পারে। ফলে উচ্ছেদ, পুনর্দখল ও চাঁদা আদায়ের চক্র বন্ধ হবে না। হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় হকার ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিকল্প কর্মসংস্থান কিংবা ব্যবসার উপযুক্ত জায়গা নিশ্চিত না করে তাঁদের উচ্ছেদ করা হলে তাঁরা আবারও ফুটপাতে ফিরে আসতে বাধ্য হবেন। সমাধান হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে হকার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এসব কমিটিতে হকারদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের রাখার কথা বলেছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিটির মাধ্যমে কোন এলাকায় কতজন হকার বসতে পারবেন, কোন সময়ে ব্যবসা করবেন এবং তাঁদের কাছ থেকে কত ফি নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে পথচারীদের চলাচল, ক্রেতার উপস্থিতি ও হকারদের আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত