প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
এলপিজির বাজারে অস্থিরতা, ভোক্তার স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ দিগন্ত ||
নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়েই আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ভোক্তার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এলপিজির দাম ও কমিশন পুনর্নির্ধারণ নিয়ে দিনব্যাপী গণশুনানি করে বিইআরসি। শুনানিতে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পর্যায়ে কমিশন বাড়ানোর দাবি জানান। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কমিশনের কারিগরি কমিটি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে। বর্তমানে নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, আমদানিকারক পর্যায়ে কমিশন ও খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশনও বাড়বে। বর্তমানে কোম্পানিগুলো প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে মজুত ও বোতলজাতকরণ বাবদ ২০০ টাকা পায়। ওমেরা এ কমিশন ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেলটা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। পরিবেশকেরা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের অভিযোগ, বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হলেও কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তাড়াহুড়া করে দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে ভোক্তার স্বার্থ ও জ্বালানি ন্যায্যতা উপেক্ষিত হচ্ছে। শুনানিতে ক্যাবের পক্ষ থেকে দাম না বাড়ানো এবং বিইআরসি নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।আরও পড়ুন,দেশি আইনজীবীদের পরামর্শক হতে পারবেন বিদেশিরা বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্রতিনিধি সৈয়দ মিজানুর রহমানও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে শুনানি বর্জনের কথা জানান। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক বছরে পরিচালন, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে। যৌক্তিক কমিশন নির্ধারণ করা না হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে না। আমদানিকারকেরা বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম, জাহাজভাড়া, বিমা ও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, শুনানিতে অংশ নেওয়া সবার মতামত পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, ২০২১ সালে নির্ধারিত কমিশন ও সংশ্লিষ্ট খরচের বিষয়গুলো বর্তমান বাস্তবতায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। এদিকে নভেম্বরের নিয়মিত মূল্য সমন্বয়েও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১০০ টাকার বেশি বাড়তে পারে বলে বিইআরসি ও আমদানিকারক সূত্র জানিয়েছে। কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাবও কার্যকর হলে ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। দেশে এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। এক কোটির বেশি গ্রাহক এই জ্বালানি ব্যবহার করেন, যার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। ফলে দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা সরাসরি সাধারণ পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত