প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
কৃষকের ন্যায্যমূল্য ও সরাসরি বাজারজাতকরণ নিশ্চিতের দাবি
সংবাদ দিগন্ত ||
কৃষিপণ্যের দামের ব্যবধান তুলে ধরে তিনি বলেন, পঞ্চগড়ে কৃষকের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ টাকায় কেনা একটি লাউ ঢাকায় এসে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরিবহন ওকৃষিঋণ মওকুফের পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকদের সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সরকারি উদ্যোগ স্বস্তিদায়ক। সরকারের হিসাবে এতে প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। তবে কৃষককে আবার একই ঋণনির্ভর পরিস্থিতিতে পড়তে হলে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কৃষকের ঋণ মওকুফের পাশাপাশি কেন তাঁকে বারবার ঋণ নিতে হচ্ছে, সেই কারণগুলোও দূর করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সারের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা, কৃষকের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানো এবং ফসল বিক্রিতে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সারের ডিলারশিপ নিয়ে অভিযোগ তুলে এনসিপির এ নেতা বলেন, লক্ষ্মীপুরে নির্বাচিত ৫৭ জন ডিলারের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে দাবি করা হচ্ছে।আরও পড়ুন,অভ্যুত্থানের পর সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ ছাত্রদল নেতার পীরগাছায় ডিলারশিপকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার বেশি লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, এসব অভিযোগ সত্য হলে ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শ্রমিকের খরচ থাকলেও উৎপাদক ও ভোক্তার দামের মধ্যে এত বড় ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, পথে চাঁদাবাজি ও বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শুধু ঋণ মওকুফ করে কৃষকের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সারের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা, বাড়তি দামে সার বিক্রি বন্ধ, পথে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরাসরি বাজারজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, কৃষককে এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে রাখতে হবে, যাতে প্রতিবছর নতুন করে ঋণ মওকুফের প্রয়োজন না পড়ে। কৃষককে ঋণমুক্ত করার পাশাপাশি লোকসানমুক্ত করাও জরুরি। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যকার ব্যবধানের স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত