প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে ইউরোপ
সংবাদ দিগন্ত ||
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাঁদের আলোচনায় যুদ্ধের অবসান, উত্তেজনা প্রশমন এবং ইউরোপের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ফিনল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম ইলের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়ে স্টাব ও স্টোরে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের সঙ্গে আগে আলোচনা করেছিলেন। স্টাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা একমত হয়েছিলেন যে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার উপযুক্ত সময় এসেছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে দেশটি-সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আলোচনা করে না ফিনল্যান্ড। পুতিনের সঙ্গে কথোপকথনকে ‘খোলামেলা ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন স্টাব। তাঁর মতে, রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি ফিনল্যান্ড, নরওয়ে এবং ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।আরো পড়ুন,ইসরায়েলের নির্বাচনে নাটকীয় মোড় যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোরে বলেন, যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। এর ফলে মানুষের দুর্ভোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাব কয়েক প্রজন্ম ধরে থাকতে পারে। তাই আলোচনায় উত্তেজনা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই নেতা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর স্টাব ও স্টোরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়ে ইউরোপের নেতাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, রাশিয়া শান্তি চায় এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেখছেন না। তাঁর মতে, ইউরোপের উচিত বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ থাকা। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়ার বৈধ স্বার্থগুলো পুরোপুরি ও নিঃশর্তভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নীতির কারণে সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলেও দাবি করেছে মস্কো। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি ইউক্রেনকে সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যেও যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে মস্কো ও কিয়েভের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত