প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
পদ্মার চরের দখল নিয়ে কাকন-কালু বাহিনীর গোলাগুলি, আতঙ্কে জেলে ও কৃষক
একেএম নাজমুল আলম ||
পদ্মা নদীর চরের দখল ও নদীপথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া ও পাবনার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে চলা এ গোলাগুলিতে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে, চরাঞ্চলের কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার পদ্মা-গড়াই নদীর মোহনা-সংলগ্ন এলাকা এবং পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ডিগ্রির চরের কলাবাগান এলাকায় দুই পক্ষের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে ওই এলাকার নদীপথ ও মোহনা-সংলগ্ন স্থানে কালু বাহিনীর প্রভাব ছিল। বর্তমানে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে কাকন বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে একটি ট্রলারে করে লোকজন নিয়ে এসে ডিগ্রির চর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে কাকন বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় চরের মাঠে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কৃষক কাজ করছিলেন। পরে কালু বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরও পড়ুন,জনবল সংকটে কসবা মৎস্য অফিস, ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রমবিকেল ৪টার দিকে আরও দুটি ট্রলারে করে লোকজন ও অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে কাকন বাহিনীর সদস্যরা। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি আরও তীব্র হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়নের দাবি, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক, এমনকি দেড় শতাধিক গুলির শব্দ শুনেছেন তিনি। তবে গুলির প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গোলাগুলির ঘটনায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভয়ে স্থানীয়দের অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, গোলাগুলির খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশের সদস্যদের পাঠানো হয়। তাঁদের সঙ্গে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশের সদস্যরাও ছিলেন। নৌ পুলিশের এসআই শফিউদ্দিন জানান, কারা গুলি চালিয়েছে, তা শনাক্ত করতে গোয়েন্দা দল কাজ করছে। গোলাগুলির ঘটনায় কাউকে অপহরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে গোলাগুলির ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। নদীপথ ও চরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এমন সংঘর্ষ স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, গোলাগুলিতে কারা জড়িত এবং এর সঙ্গে জমি বা বালুমহালের বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত