প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
গুদামের নথি ও বাস্তব মজুদে মিলল না হিসাব
সংবাদ দিগন্ত ||
কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ ও সংগ্রহের রেকর্ডে অসংগতি তৈরি করে ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। একই গুদামে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই মজুদ পাওয়া গেছে ১১৯ মেট্রিক টন চাল। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। মামলার আসামিরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ, সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হালিমুর রহমান এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ভারপ্রাপ্ত মোহাম্মদ হামিদুল হক। দুদকের এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ ও সংগ্রহের রেকর্ডে অসংগতি তৈরি করে ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকার খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি দুদকের কুড়িগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম সদর খাদ্য গুদামে অভিযান চালায়। শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ ব্লকের গুদাম পরিদর্শনে নথিভুক্ত মজুদের সঙ্গে বাস্তব মজুদের পার্থক্য পাওয়া যায়। দুই ব্লকের বিভিন্ন খামালে মোট ১ হাজার ১৭৬ বস্তা চালের ঘাটতি ধরা পড়ে। আরও পড়ুন,গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎহীন ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকাযার পরিমাণ ৪২ দশমিক ২০৫ মেট্রিক টন এবং মূল্য ২৪ লাখ ৬১ হাজার টাকার বেশি। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭১১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের রেকর্ড থাকলেও এর বড় একটি অংশের বাস্তব মজুদ বা সংগ্রহের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ৫০ মেট্রিক টন ধান ছাঁটাইয়ের জন্য একটি অটো রাইস মিলে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তবে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ওই মিল পরিদর্শন করলে মালিক জানান, সেখানে কোনো ধান পাঠানো হয়নি। এ ৫০ মেট্রিক টন ধানের মূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া আরও ৪৭১ মেট্রিক টন ধানের মজুদ বা সংগ্রহের পক্ষে গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। যার মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। অভিযানে গুদামের একটি ব্লকে রেকর্ডবহির্ভূত ১১৯ মেট্রিক টন চালও পাওয়া যায়। চালের সংগ্রহ রেজিস্টার, ওজন ও মানসংক্রান্ত সনদ, চালান এবং গুদাম লেজার দেখাতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পরে চাল জব্দ করে জিম্মায় দেওয়া হয়। দুদক জানিয়েছে, সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। রেকর্ডবহির্ভূত চাল মজুদের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত