প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সাতক্ষীরায় প্রেরণা এনজিওর পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা, গ্রেপ্তারে অভিযান
শেখ আমিনুর হোসেন ||
সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থায়ন এবং ভারতে অবস্থানরত দলটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে সাতক্ষীরার প্রেরণা এনজিওর পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে এনজিওটির অনুদান গ্রহণ, কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার এবং বিদেশে সম্পদ থাকার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার তদন্তের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং এনজিওর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তাধীন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে শম্পা গোস্বামীর অনলাইনে যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতে তাঁর বাড়ি, জমি ও ব্যাংক হিসাব থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস কিংবা অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু অভিযোগ করেছেন, প্রেরণা এনজিওর মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন ও অর্থায়নের চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে দাবি করে তিনি তাঁকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেরণা এনজিওর কার্যালয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায়।আরও পড়ুন,কলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান প্রভাস মজুমদার, চাইছেন জনসমর্থনঅভিযোগ রয়েছে, কালিগঞ্জে কার্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ওই এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের জন্য বরাদ্দ অনুদান উত্তোলন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, মহিলা অধিদপ্তরের তালিকায় কালিগঞ্জের ঠিকানায় কয়েক দফায় ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। ওই সময়ে কালিগঞ্জের দায়িত্বে ছিলেন অর্ণা চক্রবর্তী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনুদান উত্তোলনের প্রকৃত পরিস্থিতি, অর্থের ব্যবহার এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, শম্পা গোস্বামীর পরিচালিত প্রেরণা এনজিওর বিষয়ে তাঁর ওপর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকার দপ্তর থেকে এনজিওটির গত ১০ বছরের অনুদানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী রঘুনাথ খাঁ শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে এনজিওর মাধ্যমে ভারতে অর্থপাচার ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি প্রেরণা এনজিওর লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে অর্থপাচার কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিভিন্ন দলকে সতর্ক করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাংবাদিক কাজী জামাল উদ্দীন মামুনের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পর পুলিশ মামলাটি করেছে বলে জানা গেছে। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা, এজাহারের বিস্তারিত বিবরণ এবং অভিযুক্ত শম্পা গোস্বামীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।একদিকে রাষ্ট্রদ্রোহ, অর্থায়ন ও বিদেশে সম্পদের অভিযোগ, অন্যদিকে এনজিওর অনুদান ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে প্রেরণা এনজিওকে ঘিরে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আর্থিক নথিপত্র, অনুদান বিতরণের হিসাব, এনজিওর কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। মামলার এজাহার, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত