প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ছেলে শিশু নির্যাতনের প্রমাণ সংগ্রহে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাব
সংবাদ দিগন্ত ||
নৈতিক শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশে সন্তানকে গড়ে তোলার আশায় অভিভাবকেরা মাদ্রাসায় পাঠালেও সেখানে ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও বলাৎকারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্সের (জেএমবিএফ) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ৭২টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ১০৯ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার দুর্বলতা ও নির্দেশনার অভাবে বিচার অধরাই থেকে যাচ্ছে। জেএমবিএফের পর্যবেক্ষণ বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ছেলে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অন্তত ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার সিংহভাগই ঘটেছে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর বনশ্রীর একটি মাদ্রাসা থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলেও দীর্ঘ সাত মাসেও সেই বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।আরও পড়ুন,বান্ধাবাড়িতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহবুব, লক্ষ্য মাদক মুক্ত সমাজআইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছেলে শিশু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান জানান, ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট এসওপি বা দিকনির্দেশনা নেই। ফলে সংবেদনশীল প্রমাণগুলো যথাযথভাবে আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে যাওয়ায় শিশুরা চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।এই সংকট নিরসনে কেবল আইনি শাস্তি নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা এবং কঠোর শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত