প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে দেশের শিল্প খাত
সংবাদ দিগন্ত ||
বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে আত্মনির্ভরশীল করতে জরুরি সংস্কার, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ফিকি। একই সঙ্গে ব্যবসার খরচ কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ফিকি আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের সব সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে ভুল আশা দিতে চান না তিনি। অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দুই বছরে অর্থনীতি স্থিতিশীল করা হবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতি গতি পাবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে পূর্ণমাত্রায় ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।আরও পড়ুন,মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বন্ধ ব্যাংকিং লেনদেনতিনি জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি বাপেক্সের মাধ্যমে ৫০টি নতুন কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার অন্তত ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ খাতের অবকাঠামোতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে কর ছাড়ও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম সতর্ক করে বলেন, নতুন বড় কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে ২০৩৬ সালের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। আমদানি নির্ভরতা কমাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সেচে সৌরশক্তির ব্যবহার, শিল্পে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক জলবিদ্যুৎ সহযোগিতা বাড়ানোর সুপারিশ করেন তিনি। ফিকির সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দেশের শিল্প খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাই শুধু জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করলেই হবে না, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানিও নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং শিল্প খাতে সবুজ অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, জ্বালানি খাতে কার্যকর সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত